স্টাফ রিপোর্টার ::
“সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বম্ভরপুরে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বিশ্বম্ভরপুর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এর উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
বিশ্বম্ভরপুর পিএফজির আন্তঃধর্মীয় সাব-কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মোয়াফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর সামছুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা জুনায়েদ আহমদ এবং গীতা পাঠ করেন মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংলাপের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর কুদরত পাশা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পিস অ্যাম্বাসেডর আব্দুছ ছাত্তার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ, পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম খন্দকার, পিএফজির সমন্বয়কারী ফুল মালা, নারী পিস অ্যাম্বাসেডর স্বপ্না আক্তার, অনীন্দ্র বর্মণ, মাওলানা ওলীউর রহমান, মাওলানা মোশারফ হোসেন, মাওলানা মিছবাহুর রহমান, সুখেশ চন্দ্র দেবনাথ, রতœাকর হাজং, সংগীতা হাজং, গোলাপ মিয়া, আজিজা ও ঊর্মিলা হিজড়া।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মই মানবতা, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে সম্প্রীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং বিভেদ নয়, ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
সংলাপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও পিএফজির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
বক্তারা ধর্মীয়, জাতিগত ও রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।