স্টাফ রিপোর্টার ::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের বাগগাঁও গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী-পরিত্যক্ত নারী রিক্তা রানী দাসের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মাহফুজুর রহমান খাদ্যসামগ্রী নিয়ে রিক্তা রানীর অস্থায়ী বাসস্থানে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আট বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রিক্তা রানী। স্বামী পরিত্যাগ করার পর থেকে তিনি বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বর্তমানে নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্র দাসের আশ্রয়ে বসবাস করছেন।
এদিকে সন্তানের পিতার অসহযোগিতার কারণে শিশুটির জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। ফলে বয়স আট বছর হলেও তাকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো যায়নি।
রিক্তা রানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার মেয়ের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন তার সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা।
পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান আশিক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিক্তা রানীর পরিস্থিতি দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মাহফুজুর রহমান তার মেয়ের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং বাসস্থানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, অসহায় ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সবার নৈতিক দায়িত্ব। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে অনেক সামাজিক সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব। এ সময় তিনি রিক্তা রানীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য রবীন্দ্র দাসের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানান।