নির্মাণ ব্যয় ২৬৪ কোটি টাকা, উপকৃত হবে জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার লাখো মানুষ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু

আপলোড সময় : ১৬-০৬-২০২৬ ১০:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৬-২০২৬ ১০:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন
মো. বায়েজীদ বিন ওয়াহিদ :: ‎
দীর্ঘদিনের দাবির পর জামালগঞ্জ উপজেলায় সুরমা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য এ সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৪ কোটি টাকা।
জানা গেছে, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রাম এবং সাচনা ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের মধ্যবর্তী সুরমা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের দাবি ছিল এই সেতু নির্মাণের। বর্তমানে নদী পারাপারে ফেরির ওপর নির্ভর করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে জামালগঞ্জ সদর হাসপাতাল উপজেলাটির অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের ফেরিতে করে নদী পার করে হাসপাতালে নেওয়া অনেক সময় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে জামালগঞ্জের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ধর্মপাশা থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। সেতুটি বাস্তবায়ন হলে মান্নানঘাট হয়ে জামালগঞ্জের এই সেতু ব্যবহার করে সুনামগঞ্জে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় সাশ্রয় হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণের লক্ষ্যে আহ্বান করা দরপত্রের মূল্যায়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে স¤পন্ন হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
সরকার হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটির আওতায় হাওর সহিষ্ণু অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজীকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‎প্রকল্পের আওতায় হাওর অঞ্চলে ৯৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার অল সিজন সড়ক, ৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক এবং হাওরের মধ্য দিয়ে ১৩ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে মোট ৬ হাজার ৭১২ দশমিক ৬৩ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এসব প্রকল্প।
জানা যায়, ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। স¤পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরপত্র-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে মোট চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র সংগ্রহ করে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নে দুটি প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যালি নন-রেসপন্সিভ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো, এম.এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।  অন্যদিকে, যৌথভাবে এইচআইসিসি-ইউসিসি, ঢাকা একমাত্র রেসপন্সিভ দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়। গত ৯ এপ্রিল ই-জিপিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি আর্থিক দর প্রস্তাব মূল্যায়ন করে এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত ব্যয় ২৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করে।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে একমাত্র রেসপন্সিভ দরদাতা হিসেবে এইচআইসিসি-ইউসিসির অনুকূলে সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সব সদস্য পৃথক ঘোষণা প্রদান করেন। এছাড়া দরদাতা প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা সনদপত্র যাচাই-বাছাই করে সঠিক পাওয়া গেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জামালগঞ্জের সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশে করেছেন উপজেলার বাসিন্দারা। জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সুরমা নদী পারাপারে ফেরির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে রাতের বেলা বা জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জামালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেতুটি নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ সহজ হবে না, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণেও মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

সাচনা বাজারের বাসিন্দা মো. তানভির আহমেদ বলেন, এই সেতু বাস্তবায়ন হলে জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। কৃষকরা দ্রুত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারবেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যেতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই কমে আসবে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা টেকনিক্যাল সকল কাজ সমাপ্ত করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রস্তাবনা পাাঠিয়েছি আরো আগেই। মঙ্গলবার এটা ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে উপস্থাপন হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com