স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা। এতে বৃদ্ধ, শিশু ও রোগীদের নিয়ে স্বজনরা কষ্ট পোহাচ্ছেন। গ্রামে প্রতিদিন প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা এবং শহরে ৬-৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকেনা। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা।
জানাযায়, সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা বাদে বাকি উপজেলাগুলো সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে সেবা দিয়ে থাকে। সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ৩৫ হাজার গ্রাহক, ছাতক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনেও কয়েক হাজার গ্রাহক, পল্লী বিদ্যুতের অধীনে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। শহরে দিনে রাতে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকেনা।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তাদের গ্রাহকদের দৈনিক চাহিদা সাড়ে ১২ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৭ মেগাওয়াটেরও কম। একইভাবে পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট। কিন্তু তারা এর অর্ধেক পাচ্ছে। যে কারণে গ্রাহকদের কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষও চলছে।
গত মঙ্গলবার রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া এলাকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা দিরাই-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
সুনামগঞ্জ ট্রাভেলস ব্যবসায়ী জামাল আহমদ বলেন, বিদ্যুতের কারণে আমাদের ব্যবসা থমকে আছে। দূর দূরান্ত থেকে এসে গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকছেন। এতে তাদের সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে। আমাদেরও ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন দিনে রাতে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে আছেন।
শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ইকবাল বলেন, এখন তীব্র গরম চলছে। এই অবস্থায় গ্রামে প্রায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছি। জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য বিদ্যুতের কারণে থমকে আছে।
সুনামগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মৃণাল কুমার কু-ু বলেন, গতকাল আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পেয়েছি। এ কারণে লোডশেডিং ছিল। তবে গ্রামে রাস্তাঘাটে গাছ, ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে বিদ্যুৎ কম থাকে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, আমাদের সাড়ে ১২ মেগাওয়াটের চাহিদা রয়েছে। এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ মিলছেনা। যে কারণে কিছুটা লোডশেডিং আছে।