জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া ::
টাঙ্গুয়ার হাওর ও জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হাউজবোট ও নৌযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরবর্তী বাজার, বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ মিটার থেকে অবৈধভাবে লাইন টেনে হাউজবোটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি চক্র নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শতাধিক হাউজবোটের অধিকাংশই আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। এসব নৌযানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), আইপিএস, ফ্যান, লাইট, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জাম পরিচালনায় অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুনামগঞ্জ শহরের সাহেববাড়ি ঘাট, লঞ্চঘাট, আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন নদীঘাট, বাজারসংলগ্ন এলাকা, শহীদ সিরাজ লেক, শিমুল বাগান, কয়লা ডিপো, মানিগাঁও, লাউড়েরগড়, বারেকটিলা এবং টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে এমন চিত্র দেখা যায়। নদীতে নোঙর করা হাউজবোট ও নৌযানে রাতের আঁধারে কিংবা সুযোগ বুঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সচেতনমহলের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে লোডশেডিং বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের কারণে অগ্নিকা- ও বিদ্যুৎ¯পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুর, বৈঠাখালী ও সাহেববাড়ি ঘাট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সুরমা নদীতে অবস্থান করা হাউজবোটগুলোতে অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে জননিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্যাকেরঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিত্যক্ত কয়লা ডিপো, দোকান ও বসতবাড়ির মিটার থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সঙ্গেও অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়ছড়া, শ্রীপুর, ডাম্পের বাজার ও শহীদ সিরাজ লেক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অবৈধ সংযোগদাতারা কৌশলে দিনের বেলায় লাইন খুলে রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাতে পুনরায় সংযোগ দেয়। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কয়েকটি কয়লা ডিপোর ব্যবস্থাপক জানান, পরিত্যক্ত ও মালিকবিহীন ডিপোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। তবে হাউজবোট ও নৌযানের কয়েকজন মালিক ও চালক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজস্ব জেনারেটর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। অবৈধ সংযোগ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কু-ু বলেন, অনুমতি ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া আইনত দ-নীয় অপরাধ। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সংযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অতীতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা পুনরায় নানা উপায়ে সংযোগ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও অবৈধ সংযোগের বিাংদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মপফষপল, জেলার সচেতন নাগরিকরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে সমন্বিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে, রাজস্ব ক্ষতি রোধ হবে এবং দুর্ঘটনাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
টাঙ্গুয়ার হাওর ও জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হাউজবোট ও নৌযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরবর্তী বাজার, বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ মিটার থেকে অবৈধভাবে লাইন টেনে হাউজবোটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি চক্র নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শতাধিক হাউজবোটের অধিকাংশই আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। এসব নৌযানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), আইপিএস, ফ্যান, লাইট, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জাম পরিচালনায় অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুনামগঞ্জ শহরের সাহেববাড়ি ঘাট, লঞ্চঘাট, আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন নদীঘাট, বাজারসংলগ্ন এলাকা, শহীদ সিরাজ লেক, শিমুল বাগান, কয়লা ডিপো, মানিগাঁও, লাউড়েরগড়, বারেকটিলা এবং টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে এমন চিত্র দেখা যায়। নদীতে নোঙর করা হাউজবোট ও নৌযানে রাতের আঁধারে কিংবা সুযোগ বুঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সচেতনমহলের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে লোডশেডিং বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের কারণে অগ্নিকা- ও বিদ্যুৎ¯পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুর, বৈঠাখালী ও সাহেববাড়ি ঘাট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সুরমা নদীতে অবস্থান করা হাউজবোটগুলোতে অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে জননিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্যাকেরঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিত্যক্ত কয়লা ডিপো, দোকান ও বসতবাড়ির মিটার থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সঙ্গেও অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়ছড়া, শ্রীপুর, ডাম্পের বাজার ও শহীদ সিরাজ লেক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অবৈধ সংযোগদাতারা কৌশলে দিনের বেলায় লাইন খুলে রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাতে পুনরায় সংযোগ দেয়। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কয়েকটি কয়লা ডিপোর ব্যবস্থাপক জানান, পরিত্যক্ত ও মালিকবিহীন ডিপোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। তবে হাউজবোট ও নৌযানের কয়েকজন মালিক ও চালক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজস্ব জেনারেটর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। অবৈধ সংযোগ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কু-ু বলেন, অনুমতি ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া আইনত দ-নীয় অপরাধ। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সংযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অতীতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা পুনরায় নানা উপায়ে সংযোগ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও অবৈধ সংযোগের বিাংদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মপফষপল, জেলার সচেতন নাগরিকরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে সমন্বিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে, রাজস্ব ক্ষতি রোধ হবে এবং দুর্ঘটনাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।