স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু এবং হাসপাতাল চালুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবিতে টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৯ জুন) সকালে শহরের কেন্দ্রস্থল আলফাত স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এখনও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়নি। সামান্য জটিল রোগের চিকিৎসার জন্যও রোগীদের সিলেটে যেতে হয়, যা জেলার দরিদ্র মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং লাখো মানুষ উপকৃত হবেন।
বক্তারা সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালুর জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ১০ তলা হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় তা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুন এবং পরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৬ সালেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য স্থানে স্বল্প সময়ের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হলেও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বছরের পর বছর বন্ধ থাকা দুঃখজনক। তাই সরকারের কাছ থেকে লিখিতভাবে হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তারা।
বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ছাড়া একজন শিক্ষার্থী কীভাবে দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠবে - এ প্রশ্নও তোলেন তারা। হাসপাতালের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে মেডিকেল কলেজ চালু করাকে শিক্ষার্থী ও সুনামগঞ্জবাসীর সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
এর আগে সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, বিএনপি নেতা মুনাজ্জির হোসেন সুজন, সাংবাদিক পঙ্কজ কান্তি দে, আইনজীবী খলিল রহমান, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল হক মিলন এবং সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস, নৃহী রায়হান, তানভীর আহমেদ, ফয়সাল বাদশাসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করার দাবিতে গত ২১ জুন থেকে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন। এরপর থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।