দুর্নীতির তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৯:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৯:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য নতুন করে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে সংঘটিত সম্ভাব্য দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে ব্যাপক অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপন করেছেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের পক্ষে অবস্থান। তাই দুর্নীতির অভিযোগ যখনই উত্থাপিত হবে, তখনই তার নিরপেক্ষ, পেশাদার ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি অভিযোগ উপেক্ষা করাও সমানভাবে ক্ষতিকর। বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রায়ই একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা হলো - এই অভিযোগগুলো যেন কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। তদন্ত সংস্থাগুলো যেন স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান - এই নীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত না হলে দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো নিঃসন্দেহে গুরুতর অভিযোগ। যদি সত্যিই রাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ অপচয় বা পাচার হয়ে থাকে, তবে তা দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেক্ষেত্রে দায় নিরূপণ এবং ক্ষতির পরিমাণ চিহ্নিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে যে তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদ্ঘাটন, প্রতিশোধ নয়। কোনো তদন্ত যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা শুধু বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমাবে না, বরং প্রকৃত দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করবে। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং জনসম্মুখে জবাবদিহিমূলক। বাজেট আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা ও মানবস¤পদ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়নও অনেকাংশে নির্ভর করবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর। কারণ উন্নয়ন পরিকল্পনা যতই ভালো হোক, যদি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত না হয়, তবে তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না। বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ শুধু রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়, জাতীয় প্রয়োজন। অতীত, অন্তর্বর্তীকাল কিংবা বর্তমান - যে সময়েই অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকুক না কেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ দুর্নীতির কোনো দলীয় পরিচয় নেই; এর একমাত্র পরিচয় হলো এটি রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অপরাধ। জনগণ এখন বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মধ্য দিয়েই দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের পথ সুগম হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com