স্টাফ রিপোর্টার ::
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন। বৃহ¯পতিবার সকালে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। পরে বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সহযোগিতায় ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুনজিত কুমার চন্দ। মুখ্য আলোচক ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন চৌধুরী। আলোচক ছিলেন সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও সমাজকে বৈষম্য, কুসংস্কার ও বিভেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি জোগায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্বে জাতীয় কবির কালজয়ী গান, কবিতা ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। ‘চল চল চল’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’সহ জনপ্রিয় নজরুলসংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি নৃত্য ও আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পাশাপাশি সোহিনী সংগীত বিদ্যালয়, নৃত্যভূমি সুনামগঞ্জ, অয়নৃত্য সুনামগঞ্জ এবং আনন্দলোকে আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬-২৭’-এর সুনামগঞ্জ পর্ব।