শহীদনূর আহমেদ::
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালটির ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরই মধ্যে ৭ জন চিকিৎসকের বদলি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শয্যার সংকট এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০২ জন, যেখানে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা মাত্র ২৫০টি। ফলে একটি শয্যায় একাধিক রোগী, আবার অনেকে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু, মেডিসিন, নারী, পুরুষ, লেবার ওয়ার্ড এবং কেবিন -সবখানেই একই চিত্র।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠার পর এটাই হাসপাতালে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড। বর্তমানে হামে আক্রান্ত শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মৌসুমি ঠা-াজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আরও প্রায় দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন। অন্যান্য ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৫০০ রোগী বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স, শয্যা ও ওষুধের সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে লোকবল না বাড়লে চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ৩ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন কনসালট্যান্টসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান ওএসডি হওয়ার পর নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংকট নিরসন না হলে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। শনিবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। প্রচ- গরম ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শিশু ওয়ার্ডের একজন সেবিকা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। চলমান গরমের মধ্যে হাম, ঠান্ডা জনিত রোগ ও শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা। শয্যা না পাওয়া, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসক সংকটের অভিযোগ তাদের। রোগী দিলারা বেগমের এক স্বজন বলেন, সরকারি হাসপাতালে মানুষ আসে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। কিন্তু চার দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরে পড়ে আছি। একটি বেডও পাইনি। প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। আরেক রোগীর স্বজন সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার কম। সকালে একবার ডাক্তার দেখে যান, এরপর আর পাওয়া যায় না। হাম রোগের চিকিৎসাও ঠিকমতো হচ্ছে না। আমরা গ্রামের মানুষ, সরকারি হাসপাতালে এসে যদি ভালো চিকিৎসা না পাই, তাহলে কোথায় যাব?
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালটির ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরই মধ্যে ৭ জন চিকিৎসকের বদলি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শয্যার সংকট এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০২ জন, যেখানে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা মাত্র ২৫০টি। ফলে একটি শয্যায় একাধিক রোগী, আবার অনেকে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু, মেডিসিন, নারী, পুরুষ, লেবার ওয়ার্ড এবং কেবিন -সবখানেই একই চিত্র।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠার পর এটাই হাসপাতালে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড। বর্তমানে হামে আক্রান্ত শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মৌসুমি ঠা-াজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আরও প্রায় দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন। অন্যান্য ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৫০০ রোগী বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স, শয্যা ও ওষুধের সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে লোকবল না বাড়লে চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ৩ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন কনসালট্যান্টসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান ওএসডি হওয়ার পর নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংকট নিরসন না হলে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। শনিবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। প্রচ- গরম ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শিশু ওয়ার্ডের একজন সেবিকা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। চলমান গরমের মধ্যে হাম, ঠান্ডা জনিত রোগ ও শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা। শয্যা না পাওয়া, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসক সংকটের অভিযোগ তাদের। রোগী দিলারা বেগমের এক স্বজন বলেন, সরকারি হাসপাতালে মানুষ আসে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। কিন্তু চার দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরে পড়ে আছি। একটি বেডও পাইনি। প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। আরেক রোগীর স্বজন সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার কম। সকালে একবার ডাক্তার দেখে যান, এরপর আর পাওয়া যায় না। হাম রোগের চিকিৎসাও ঠিকমতো হচ্ছে না। আমরা গ্রামের মানুষ, সরকারি হাসপাতালে এসে যদি ভালো চিকিৎসা না পাই, তাহলে কোথায় যাব?