স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুরের ধোপাজান নদীতে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের অবৈধ আগ্রাসন বন্ধে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘ। একই সঙ্গে ইজারা প্রথা বাতিল, সরকারিভাবে বালি-পাথর ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালু, শ্রমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং সনাতন পদ্ধতিতে বালি-পাথর আহরণের অধিকার নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার জিনারপুর বাজারে সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের (রেজি নং-চট্টগ্রাম-২৮৮৩) উদ্যোগে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনের সভাপতি নাসির মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিদ্দিক মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিক নেতা, ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু বলেন, ধোপাজান নদীতে অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিনের আগ্রাসন শুধু পরিবেশ ধ্বংস করছে না, হাজারো শ্রমিকের জীবন-জীবিকাও বিপন্ন করে তুলেছে। শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় বালি-পাথর ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থা চালু না হলে এ সংকট আরও গভীর হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক সাইফুল আলম ছদরুল বলেন, প্রাকৃতিক স¤পদ রক্ষার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়াও একই দাবি জানিয়ে শ্রমিকদের দুর্দশা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বারকি শ্রমিক সংঘের প্রবীণ নেতা নাসির মিয়া (নাসু), প্রচার স¤পাদক আবুল বাশার, সদস্য মরমা আলী, তাহের মিয়া, মনির মিয়াসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ড্রেজার ও বোমা মেশিনের লাগামহীন ব্যবহারে ধোপাজান নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী বহু হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ও জনপদ বিলীন হয়ে গেছে। তারা দাবি করেন, অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেটের দৌরাÍ্যরে কারণেই ২০১৮ সাল থেকে বালি-পাথর মহাল কার্যত বন্ধ রয়েছে।
বক্তারা বলেন, ভাটির জনপদ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন বালি-পাথর মহাল। দীর্ঘদিন মহাল বন্ধ থাকায় বারকি শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- গণবিরোধী ইজারা প্রথা বাতিল করে সরকারি উদ্যোগে বালি-পাথর ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালু, দুর্নীতিগ্রস্ত নীতিমালা পরিবর্তন করে শ্রমবান্ধব গণনীতিমালা প্রণয়ন, মহালের বাইরে স্টিল বডি নৌকা রাখার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ, কার্ডধারী বারকি শ্রমিকদের সনাতন পদ্ধতিতে (বারকি, বেলচা, নেট ও সাবল ব্যবহার করে) বালি-পাথর আহরণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে ধোপাজান চলতি নদীর বালি-পাথর মহাল খুলে দেওয়া।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, এসব দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ধোপাজান নদীর বালি-পাথর মহাল চালুর দাবি জানিয়ে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে নদীর পরিবেশ ও শ্রমিকদের রুটি-রুজি রক্ষায় ড্রেজার ও বোমা মেশিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।