কোটি কোটি টাকার পণ্যসহ ৪ শতাধিক নৌযান আটকে, চরম দুর্ভোগে শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা

তাহিরপুরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে নৌযান ধর্মঘট

আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১২:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১২:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে চার শতাধিক কয়লা ও চুনাপাথরবাহী নৌযান ধর্মঘট পালন করছের। কয়েক কোটি টাকার মালামালবোঝাই এসব নৌযান গত কয়েকদিন ধরে নদীতে আটকে থাকায় ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে সাতটি খাতে ইজারার নামে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ধর্মঘটের কারণে শত শত নৌ-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাটলাই এবং যাদুকাটা নদীতে ঘাগড়া ঘাট, ফাজিলপুর টোল ও বিআইডব্লিউটিএ’র নামে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ২, ৩ ও ৪ জুলাই যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির উদ্যোগে যৌথভাবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি নৌ পুলিশ সুপার (সিলেট অঞ্চল), তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, যেসব ঘাটের নামে টোল আদায় করা হচ্ছে, বাস্তবে সেসব ঘাট দিয়ে কোনো মালামাল ওঠানামা হয় না। চলন্ত নৌযান মাঝনদীতে থামিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়। টাকা নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌযান আটকে রাখা, শ্রমিকদের মারধর ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ফাজিলপুর এলাকায় একই পয়েন্টে বিআইডব্লিউটিএ, খাস কালেকশন ও ফাজিলপুর টোল - এই তিন খাতে পৃথকভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি কুটগাড়ি, ইউনিয়ন পরিষদ ও আরিকাটার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টোল চার্ট টানানো নেই, আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে রশিদ দেওয়া হয় না এবং ইজারাদারের লোকজন মনগড়া হারে অর্থ আদায় করছেন। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো- সরকারি টোল চার্ট প্রকাশ্যে প্রদর্শন, আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে বাধ্যতামূলক পাকা রশিদ প্রদান, নৌ-শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ এবং মাঝনদীতে নৌযান থামিয়ে চাঁদা আদায় বন্ধ করে নির্ধারিত বুথের মাধ্যমে বৈধভাবে টোল আদায়ের ব্যবস্থা। পাশাপাশি নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা। নৌযান মালিক ফারুক মিয়া বলেন, যে ঘাট দিয়ে আমরা কোনো মালামাল ওঠানামা করি না, সেই ঘাটের নামেই চলন্ত নদীতে টাকা দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শত শত নৌযান মালিক দেউলিয়া হয়ে যাবেন, হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন। পাটলাই নদীর কামালপুর এলাকায় আটকে থাকা শ্রমিক জামাল মিয়া বলেন, অতিরিক্ত টোলের কারণে পাঁচ দিন ধরে নৌযান নিয়ে বসে আছি। ইজারাদারের দাবি অনুযায়ী টাকা দিলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল অতিরিক্ত টোল আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে ঘাগড়া ঘাটে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে। শুধু তিনি নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও বিভিন্ন ঘাটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার নাসির মিয়া। তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি টনে ৭০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর বেশি নেওয়া হচ্ছে না। চলতি বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ইজারা নিয়েছি। বড়ছড়া কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি খসরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলম বলেন, নৌযান আটকে থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ইজারাদার অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন না। ১ জুলাই থেকে সারাদেশে সরকারি ট্যারিফ অনুযায়ী মালামাল লোড-আনলোড বাবদ প্রতি টনে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com