উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে লোকবল সংকট

৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য

আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ০৯:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ০৯:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শামস শামীম::
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার লক্ষ্যে ইউআরসি (উপজেলা রিসোর্স সেন্টার) গঠিত হলেও সুনামগঞ্জে জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। জেলায় ৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২জন। ৩৬টি পদই শূন্য। এর মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় একজনও নেই। এই দুটি উপজেলায় অন্য উপজেলার ইনস্ট্রাক্টর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য জেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট লোকবল থাকলেও পিছিয়ে আছে হাওর জনপদের জেলা সুনামগঞ্জ। এখানে মাঝে মধ্যে লোক নিয়োগ হলেও তারা দ্রুত অন্যত্র বদলি হয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইউনূস সরকার প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ইউআরসি থেকে ইউপিইটিসি (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র) নামকরণ করে। নতুন নামকরণ করলেও প্রতিষ্ঠানটির মানোন্নয়ন বা জনবল নিয়োগ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কোন ভূমিকা নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা, বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান, আধুনিক শিখন পদ্ধতি প্রয়োগ, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও একাডেমিক সহায়তা প্রদান, শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন ও ফিডব্যাক মেন্টরিং, সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা, প্রধান শিক্ষকদের লিডারশিপ উন্নয়ন এবং উপজেলার সকল শিক্ষকের ডাটা ও তথ্য সংরক্ষণসহ নানাভাবে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নানা কাজ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র। জেলার ১২টি উপজেলায় ১১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকলেও মধ্যনগর উপজেলায় এখনো পদ সৃষ্টি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন ইনস্ট্রাক্টর, একজন সহকারী ইনস্ট্রাক্টর, একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও একজন নাইটগার্ডের পদ রয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে চার ভাগের তিনভাগ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও গবেষণায় কাক্সিক্ষত অবদান রাখতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষকরাও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চারটি পদের বিপরিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পদ খালি রয়েছে। বর্তমানে ইনস্ট্রাকটর ও নাইট গার্ড আছেন। এই অফিসের ইনস্ট্রাক্টর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বম্ভরপুরে বর্তমানে কেউ কর্মরত নেই। একইভাবে তাহিরপুর উপজেলায়ও কেউ কর্মরত নেই। এই উপজেলায় সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ের একজন ইনস্ট্রাক্টর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুটি উপজেলাসহ জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও ধর্মপাশায় কেবল ইনস্ট্রাক্টর রয়েছেন। এই উপজেলাগুলোর পিয়ন, নাইটগার্ড ও অফিস সহায়কের কাজ ইনস্ট্রাক্টরকেই করতে হচ্ছে। ছাতক, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জে ইনস্ট্রাক্টর ও নাইট গার্ড পদে লোক রয়েছে। এসব উপজেলায় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টরের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য আছে। এদিকে অন্যান্য উপজেলায় মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও মধ্যনগর উপজেলায় এখনো পদ সৃষ্টি হয়নি। যার ফলে এখনো উপজেলার কার্যক্রম ধর্মপাশা উপজেলা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ধর্মপাশায়ও মাত্র ১ জন ইনস্ট্রাক্টর কর্মরত আছেন। জানা গেছে, ইনস্ট্রাক্টর ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদ মন্ত্রণালয় বিসিএস নন ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়। নাইট গার্ড ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের চেয়ে অন্যান্য এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে লোকবলের সংখ্যা বেশি রয়েছে বলে জানা গেছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইনস্ট্রাক্টর সৈয়দ সাহলান আহমদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোন্নয়ন ও গবেষণার জন্যই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সুনামগঞ্জের সবগুলো উপজেলায় লোকবল না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ বলেন, ভৌগোলিকভাবে আমরা বিচ্ছিন্ন এলাকা। আমাদের জন্য সর্বক্ষেত্রে আলাদা পলিসি দরকার। প্রয়োজন হাওর জেলাগুলো নিয়ে একটি আলাদা মন্ত্রণালয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হাওরকে আলাদাভাবে বিবেচনা না করে, প্রণোদনা না দিয়ে পলিসি বাস্তবায়ন করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত হাওর সর্বক্ষেত্রে জাতীয় উন্নয়ন সমতা থেকে পিছিয়ে থাকবে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র এ কারণেই জনকল সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং কাক্সিক্ষত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। অথচ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি কর্মমুখর থাকার কথা বেশি। সুনামগঞ্জ পিটিআই সুপার দীপঙ্কর মোহান্ত বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে লোকবল সংকট চরমে। হাওরের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য লোকবল নিয়োগ জরুরি। আমরা এ বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিদ্যমান বাস্তবতা অবগত করছি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com