স্টাফ রিপোর্টার ::
ছাতক উপজেলার চেলা নদীর শাখা চৈলতার ঢালা থেকে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযোগ, গত ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত রাতের আঁধারে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ছাতক থানায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(ঙ), ১২ এবং ১৫(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।
মামলার আসামিরা হলেন ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের ইসলাম উদ্দিন মেম্বার (৫২), জমির আলী (৩৮), আলমপুর গ্রামের খালিক মিয়া (৪০), মাহমদ হোসন (৫০), দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ধন মিয়া মেম্বার (৬৫)সহ মোট ২৬ জন। এছাড়া আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ও পাড়াপুঞ্জি মৌজার অন্তর্গত রহমতপুর, আলমপুর, কাজীরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চেলা নদীর শাখা চৈলতার ঢালা থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। গত ১৬ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং সরেজমিন তদন্তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকা- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, গত ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত অভিযুক্তরা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।