পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা

গ্রাহকের ৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও দুই কর্মী

আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৫৬:১৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৫৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
জামালগঞ্জ প্রতিনিধি ::
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে গ্রাহকের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি এনজিও’র দুই কর্মী উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার জামালগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে সংস্থাটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও অভিযোগ থেকে জানাযায়, প্রায় চার বছর আগে উপজেলার সাচনা বাজারে বিপ্লব পালের ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া নিয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা কার্যক্রম শুরু করে। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকারের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। গত চার বছরে সংস্থাটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। সম্প্রতি গ্রাহকেরা সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করতে গেলে নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। একপর্যায়ে গত ১৭ জুলাই শুক্রবার মাঠকর্মী ও কয়েকজন গ্রাহক সংস্থাটির কার্যালয়ে গিয়ে দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন। পরে মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই জামালগঞ্জ থানায় জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী এবং সংস্থাটির আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন সীমা রাণী সরকার। পরে ২২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার বলেন, আমি গত চার বছর ধরে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করছি। প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাছে জমা দিয়ে আসছি। গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো সংস্থার কার্যালয়ে গেলে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পাই। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তারকে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে ডিডি স্যারকে ফোন করলে তিনি থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন এবং দুই-তিন দিনের মধ্যে আসবেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, আমি একজন সাধারণ মাঠকর্মী। জেসমিন আক্তার ও হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ গ্রাহকদের সঞ্চিত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। অভিযুক্ত ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জামিনুর হক বলেন, বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কর্তৃপক্ষ সমাধান না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com