বিশেষ প্রতিনিধি ::
দুই দশক আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক সালিশে ক্ষতিপূরণের রায় এবং নতুন কূপ খননের পরিকল্পনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে জেগেছে নতুন আশা। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন পর গ্যাসক্ষেত্রটি পুনরায় চালু হলে দেশের জ্বালানি খাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, তেমনি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও গতি ফিরবে সীমান্তবর্তী এই জনপদে।
১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র একসময় দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানকার গ্যাস ছাতক সিমেন্ট কারখানা ও ছাতক পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। তবে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সেসের পরিচালনাকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ ব্লো-আউটের ঘটনায় গ্যাসক্ষেত্রটিতে অগ্নিকা-ের সৃষ্টি হয়। শত শত ফুট উঁচু আগুনে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জ্বলতে থাকে। এতে আশপাশের কৃষিজমি, বনাঞ্চল, পরিবেশ ও বহু মানুষের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত নাইকো রিসোর্সেসকে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম এবং নতুন কূপ খননের বিষয়টি সামনে আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স¤পন্ন করে গ্যাসক্ষেত্রটিকে পুনরায় উৎপাদনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, স্থানীয়দের বিশ্বাস, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্যাসক্ষেত্রটি পুনরায় চালু করা হলে টেংরাটিলা আবারও দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিস্ফোরণের প্রায় দুই দশক পরও অনেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি। এখনও অনেক পরিবার সেই ক্ষতির প্রভাব বহন করছে।
টেংরাটিলা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া বলেন, বিস্ফোরণের পর আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন যদি নতুন করে কূপ খনন হয়, তাহলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
একই গ্রামের আব্দুল খালিক বলেন, গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ হওয়ার পর এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। আবার কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে বলে আমরা আশা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, টেংরাটিলা আবার চালু হলে শুধু এই এলাকার মানুষ নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে। তবে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণও নিশ্চিত করতে হবে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি এখনো বন্ধ রয়েছে। আপাতত কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা না হলেও নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া চলমান আছে।