কাঁচা মরিচের ‘ঝালে’ নাকাল ক্রেতা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা

আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ১০:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ১০:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের স্থানীয় কাঁচাবাজারে দু-একটি পণ্যের দামে সাময়িক হ্রাসের দেখা মিললেও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি যেন নি¤œ ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের অনিয়ন্ত্রিত দাম ও রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ কাঁচামরিচের হঠাৎ ‘ঝাল’ বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতিতে তাদের পকেটে টান পড়ার পাশাপাশি নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বাজারে বেগুন, আলু বা শাকসবজির দাম সামান্য কমতির দিকে থাকলেও হুট করেই চড়া হয়ে উঠেছে কাঁচামরিচের বাজার। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে। গৃহস্থালির নিত্যদিনের রান্নায় অতি প্রয়োজনীয় এই উপকরণটির আকাশচুম্বী দাম দেখে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষের চোখেমুখে যেন হতাশার স্পষ্ট ছাপ। পৌর সবজি বাজারের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী মো. গিয়াস উদ্দিন এই দরবৃদ্ধি নিয়ে জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় বেগুন, আলু কিংবা বেশ কিছু শাকসবজির দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতাদের করার কিছু নেই। আড়তে মরিচের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কম। আমাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বাজারেও বেশি দামে বেচতে হচ্ছে। বাজারে আলুর ক্ষেত্রে মানের বড় তারতম্য দেখা গেছে। দেশি আলুর চাহিদা কম থাকলেও এর দাম কিছুটা বেশি, আর মুন্সিগঞ্জী আলু মিলছে অপেক্ষাকৃত সহনীয় দামে। বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি মুন্সিগঞ্জী আলু ৩০ টাকা, দেশি আলু ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, কাঁচকলা ৮০ টাকা হালি ও লাউ ১২০ টাকা। কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির চড়া মূল্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সীমিত আয়ের মানুষ। কেনাকাটা করতে আসা মধ্যবিত্ত ক্রেতা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ চেপে রাখতে না পেরে বলেন, সবজির দাম দু-একটি পণ্যে সামান্য কমলে কী হবে? কাঁচামরিচ যদি ৩০০ টাকা কেজি কিনতে হয়, তবে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষ যাবে কোথায়? রান্নার এই অপরিহার্য উপকরণের দাম এভাবে লাফিয়ে বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের উচিত কাঁচামরিচসহ সব নিত্যপণ্যে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। নি¤œবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। তাদের বাজেট ছাঁটাই করে তাল মেলাতে হচ্ছে এই অস্বাভাবিক দরদামের সাথে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষাকালীন জোগান হ্রাস এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে কাঁচামরিচ ও কিছু সবজির বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে বাজারে অসাধু আড়তদারদের কারসাজি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাজারের দরবৈষম্য ও মরিচের এই অনাকাক্সিক্ষত দাম বৃদ্ধি নিয়ে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আহমদ আসিফুর রব বলেন, আমরা বাজারে নিয়মিত তদারকি চালাচ্ছি। পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্যের ব্যবধান নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অসাধু চক্র বা আড়তদার যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অহেতুক কাঁচামরিচের দাম বাড়িয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় মাঠে আমাদের নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com