বিশেষ প্রতিনিধি::
মায়ের হাত ধরে পানিতে নেমেছে ছোট্ট ছেলে। একটু দূরে স্বামী-স্ত্রী মিলে টানছেন ঠেলা জাল। কোথাও বাবা নদীর স্রোতে থেকে কয়লা তুলছেন, আর তীরে দাঁড়িয়ে বস্তা ধরে আছে তার কিশোর সন্তান। তাহিরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢল নামলেই এমন দৃশ্য হয়ে ওঠে প্রতিদিনের বাস্তবতা। জীবনের ঝুঁকি জেনেও পুরো পরিবার নেমে পড়ে ঢলের পানিতে ভেসে আসা কয়লা সংগ্রহে। কারণ এই কয়লাতেই জ্বলে তাদের চুলা, মেটে সন্তানের খাবারের চাহিদা, চলে পড়াশোনার খরচ, কোনো রকমে টিকে থাকে সংসার। হাওর অধ্যুষিত তাহিরপুর উপজেলা ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত হলেও সীমান্ত এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের এখনো স্থায়ী কর্মসংস্থান নেই। তাই বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানিতে কিংবা স্থলবন্দর এলাকার সড়কে ছড়িয়ে থাকা ‘বাংলা কয়লা’ই হয়ে ওঠে তাদের আয়ের প্রধান উৎস। উপজেলার যাদুকাটা, মাহারাম, বৌলাই, রক্তি ও পাটলাই নদীতে ভেসে আসা কয়লা ঠেলাজালে তুলে বালু-নুড়ি পরিষ্কার করে বস্তাবন্দি করেন সংগ্রহকারীরা। পরে স্থানীয় বাজারে প্রতিটি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। কেউ দিনে একটি বস্তা, আবার ভাগ্য ভালো হলে চার থেকে পাঁচটি বস্তা পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেন। সেই সামান্য আয় দিয়েই চলে পরিবারের ভরণপোষণ। স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই কয়লা সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তবে কয়লা সংগ্রহ করেই শেষ হয় না তাদের দুর্ভোগ। বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাব এবং দামের অস্থিরতার কারণে প্রায়ই বস্তাভর্তি কয়লা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়, আবার কখনো অবিক্রিত কয়লা বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হয়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেও কাক্সিক্ষত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কয়লা সংগ্রহকারী মাজেদা বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পানিতে থাকি। কোনো দিন এক বস্তা পাই, কোনো দিন দুই-তিন বস্তা। এই কয়লা বিক্রি করেই সংসার চালাতে হয়। বাজারে ভালো দাম না পেলে অনেক কষ্ট হয়। মতিন মিয়া নামের একজন বলেন, পাহাড়ি ঢল এলে স্রোত অনেক বেশি থাকে। ঝুঁকি নিয়েই কয়লা তুলতে হয়। কিন্তু যে দামে বিক্রি করি, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষের জন্য এখনো টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ফলে জীবিকার তাগিদে তারা বছরের পর বছর ভাসমান কয়লা সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, এসব মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
মায়ের হাত ধরে পানিতে নেমেছে ছোট্ট ছেলে। একটু দূরে স্বামী-স্ত্রী মিলে টানছেন ঠেলা জাল। কোথাও বাবা নদীর স্রোতে থেকে কয়লা তুলছেন, আর তীরে দাঁড়িয়ে বস্তা ধরে আছে তার কিশোর সন্তান। তাহিরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢল নামলেই এমন দৃশ্য হয়ে ওঠে প্রতিদিনের বাস্তবতা। জীবনের ঝুঁকি জেনেও পুরো পরিবার নেমে পড়ে ঢলের পানিতে ভেসে আসা কয়লা সংগ্রহে। কারণ এই কয়লাতেই জ্বলে তাদের চুলা, মেটে সন্তানের খাবারের চাহিদা, চলে পড়াশোনার খরচ, কোনো রকমে টিকে থাকে সংসার। হাওর অধ্যুষিত তাহিরপুর উপজেলা ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত হলেও সীমান্ত এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের এখনো স্থায়ী কর্মসংস্থান নেই। তাই বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানিতে কিংবা স্থলবন্দর এলাকার সড়কে ছড়িয়ে থাকা ‘বাংলা কয়লা’ই হয়ে ওঠে তাদের আয়ের প্রধান উৎস। উপজেলার যাদুকাটা, মাহারাম, বৌলাই, রক্তি ও পাটলাই নদীতে ভেসে আসা কয়লা ঠেলাজালে তুলে বালু-নুড়ি পরিষ্কার করে বস্তাবন্দি করেন সংগ্রহকারীরা। পরে স্থানীয় বাজারে প্রতিটি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। কেউ দিনে একটি বস্তা, আবার ভাগ্য ভালো হলে চার থেকে পাঁচটি বস্তা পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেন। সেই সামান্য আয় দিয়েই চলে পরিবারের ভরণপোষণ। স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই কয়লা সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তবে কয়লা সংগ্রহ করেই শেষ হয় না তাদের দুর্ভোগ। বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাব এবং দামের অস্থিরতার কারণে প্রায়ই বস্তাভর্তি কয়লা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়, আবার কখনো অবিক্রিত কয়লা বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হয়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেও কাক্সিক্ষত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কয়লা সংগ্রহকারী মাজেদা বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পানিতে থাকি। কোনো দিন এক বস্তা পাই, কোনো দিন দুই-তিন বস্তা। এই কয়লা বিক্রি করেই সংসার চালাতে হয়। বাজারে ভালো দাম না পেলে অনেক কষ্ট হয়। মতিন মিয়া নামের একজন বলেন, পাহাড়ি ঢল এলে স্রোত অনেক বেশি থাকে। ঝুঁকি নিয়েই কয়লা তুলতে হয়। কিন্তু যে দামে বিক্রি করি, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষের জন্য এখনো টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ফলে জীবিকার তাগিদে তারা বছরের পর বছর ভাসমান কয়লা সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, এসব মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।