শেরগুল আহমেদ
১. পটভূমি ও বর্তমান সংকট : সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যা¤পাস কোথায় নির্মিত হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। বর্তমানে জেলার দুটি পক্ষ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। উভয়পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে এবং একে অন্যের বিরোধিতা করে চলেছে। এই কাদা-ছোড়াছুড়ির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ থমকে আছে, যার সুনির্দিষ্ট কোনো সুফল এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ২. গেজেটের অস্পষ্টতা : বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি গেজেটে ক্যাম্পাস নির্মাণের স্থান হিসেবে স্পষ্টভাবে “দেখার হাওরের পাড়” উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে এর ভৌগোলিক বিস্তৃতি নিয়ে। দেখার হাওরের পাড় অত্যন্ত বিশাল হওয়ায়, এর ঠিক কোন অংশে বা কোন নির্দিষ্ট মৌজায় ক্যাম্পাসটি গড়ে উঠবে - তা গেজেটে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। এই প্রশাসনিক অস্পষ্টতাই বর্তমান বিতর্কের প্রধান উৎস। ৩. দীর্ঘসূত্রতার নেতিবাচক প্রভাব : ক্যা¤পাস নির্ধারণের এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের কারণে প্রকল্পটি চরমভাবে বিলম্বিত হচ্ছে। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ এভাবে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সময়মতো ক্যাম্পাস নির্মিত না হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সেশন জট সৃষ্টি হতে পারে। উন্নয়ন বাজেট যথাসময়ে ছাড় বা ব্যবহার না হলে তা ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই অপূরণীয় ক্ষতি সুনামগঞ্জের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নয়নকে বহুবছর পিছিয়ে দেবে। ৪. সংকট উত্তরণে প্রস্তাবিত সমাধান (সমন্বিত উদ্যোগ) : যেহেতু গেজেটে নির্দিষ্ট কোনো স্থান চূড়ান্ত করা হয়নি, তাই স্থানীয় কোন্দল বাদ দিয়ে একটি যৌক্তিক ও সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি। এই অচলাবস্থা নিরসনে একটি জরুরি সমন্বিত সভা আহ্বান করা যেতে পারে। সভায় যাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: চলমান বিরোধে লিপ্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদল। সুনামগঞ্জ জেলার সকল সম্মানিত সংসদ সদস্য (এমপি)। স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিবৃন্দ। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ। সিনিয়র আইনজীবী এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। ৫. উপসংহার : ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের সেন্টিমেন্ট ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একটি সমন্বিত সভার মাধ্যমে উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে “দেখার হাওরের পাড়”-এর সবচেয়ে উপযুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও যোগাযোগ-উপযোগী অংশটি চূড়ান্ত করাই হবে একমাত্র যৌক্তিক সমাধান। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত না নিলে প্রকল্প বিলম্বের দায় সবাইকে নিতে হবে।
[শেরগুল আহমেদ : প্রাক্তন অধ্যক্ষ, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজ]
১. পটভূমি ও বর্তমান সংকট : সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যা¤পাস কোথায় নির্মিত হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। বর্তমানে জেলার দুটি পক্ষ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। উভয়পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে এবং একে অন্যের বিরোধিতা করে চলেছে। এই কাদা-ছোড়াছুড়ির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ থমকে আছে, যার সুনির্দিষ্ট কোনো সুফল এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ২. গেজেটের অস্পষ্টতা : বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি গেজেটে ক্যাম্পাস নির্মাণের স্থান হিসেবে স্পষ্টভাবে “দেখার হাওরের পাড়” উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে এর ভৌগোলিক বিস্তৃতি নিয়ে। দেখার হাওরের পাড় অত্যন্ত বিশাল হওয়ায়, এর ঠিক কোন অংশে বা কোন নির্দিষ্ট মৌজায় ক্যাম্পাসটি গড়ে উঠবে - তা গেজেটে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। এই প্রশাসনিক অস্পষ্টতাই বর্তমান বিতর্কের প্রধান উৎস। ৩. দীর্ঘসূত্রতার নেতিবাচক প্রভাব : ক্যা¤পাস নির্ধারণের এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের কারণে প্রকল্পটি চরমভাবে বিলম্বিত হচ্ছে। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ এভাবে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সময়মতো ক্যাম্পাস নির্মিত না হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সেশন জট সৃষ্টি হতে পারে। উন্নয়ন বাজেট যথাসময়ে ছাড় বা ব্যবহার না হলে তা ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই অপূরণীয় ক্ষতি সুনামগঞ্জের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নয়নকে বহুবছর পিছিয়ে দেবে। ৪. সংকট উত্তরণে প্রস্তাবিত সমাধান (সমন্বিত উদ্যোগ) : যেহেতু গেজেটে নির্দিষ্ট কোনো স্থান চূড়ান্ত করা হয়নি, তাই স্থানীয় কোন্দল বাদ দিয়ে একটি যৌক্তিক ও সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি। এই অচলাবস্থা নিরসনে একটি জরুরি সমন্বিত সভা আহ্বান করা যেতে পারে। সভায় যাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: চলমান বিরোধে লিপ্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদল। সুনামগঞ্জ জেলার সকল সম্মানিত সংসদ সদস্য (এমপি)। স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিবৃন্দ। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ। সিনিয়র আইনজীবী এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। ৫. উপসংহার : ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের সেন্টিমেন্ট ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একটি সমন্বিত সভার মাধ্যমে উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে “দেখার হাওরের পাড়”-এর সবচেয়ে উপযুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও যোগাযোগ-উপযোগী অংশটি চূড়ান্ত করাই হবে একমাত্র যৌক্তিক সমাধান। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত না নিলে প্রকল্প বিলম্বের দায় সবাইকে নিতে হবে।
[শেরগুল আহমেদ : প্রাক্তন অধ্যক্ষ, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজ]