দিরাই প্রতিনিধি ::
দিরাই উপজেলা বিএনপিতে প্রকাশ্যে বিভক্তির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটির দুই পক্ষ। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের নেতৃত্বাধীন পক্ষ দলীয় কার্যালয়ে কর্মীসভা করে আগামী ৮ আগস্ট সমাবেশের ঘোষণা দেয়। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক সাংগঠনিক সফরও শুরু করেছেন তারা।
অন্যদিকে, গত বৃহ¯পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারের নেতৃত্বাধীন পক্ষ দলীয় কার্যালয়ে কর্মীসভা করে ৬ আগস্ট সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
দুই পক্ষের পৃথক সমাবেশের ঘোষণায় দিরাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনটি বলয়ে বিভক্ত থাকলেও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে নাছির উদ্দীন চৌধুরী বিজয়ী হওয়ার পর সেই ঐক্য ভেঙে গিয়ে আবারও বিভক্তি প্রকট হয়ে ওঠে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একপক্ষে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার। অপরদিকে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী।
এর আগে গত ৬ জুলাই এক পক্ষ সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে। এর জেরে ১৬ জুলাই মাসুকের নেতৃত্বাধীন পক্ষ বিশেষ সভা করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠায়।
পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কপন্থিরা ঢাকায় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সরকারি বাসভবনে বৈঠক শেষে দিরাইয়ে ‘সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সমাবেশ আয়োজন করে। ওই সমাবেশে মাসুকপন্থি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় একের পর এক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং এখন পৃথক সমাবেশের ঘোষণায় দলীয় তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং সুবিধাবাদী ও আওয়ামী লীগ থেকে আসা ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী বলেন, দিরাই বিএনপি জননেতা নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আগামী ৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, আমি দলের স্বাক্ষরক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য সচিব। আমাকে না জানিয়ে সভা-সমাবেশ করা সংগঠনবিরোধী। যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, তারাই এখন বিএনপির অভিভাবক সেজেছেন। কিছু লোকের কারণে দলের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির স্বাক্ষরক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে, দিরাই বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক সমাবেশকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক মহলের।