স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রশ্নে সুবিপ্রবি’র নতুন উপাচার্য

হাওরের পরিবর্তে জায়গা নির্ধারণে ৫ এমপিকে এক হতে হবে

আপলোড সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০১:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০১:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন।

খবরের কাগজ-এর সৌজন্যে পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি অবিকল তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন : স্থায়ী অবকাঠামো ও জনবলহীন একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রথম চ্যালেঞ্জ কী? আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
উপাচার্য: সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিবো কোথা! আমি এসে এক-দুই দিনে যতটুকু খোঁজখবর নিয়েছি, তাতে বুঝতে পারছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্ষেত্রই চ্যালেঞ্জিং এবং উন্নতি প্রয়োজন। এত সমস্যার মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে বলব? শিক্ষার্থীদের স্থায়ী একটা জায়গায় ক্লাস নিয়ে ভালো শিক্ষক দিয়ে তাদের কিছু শিখিয়ে যাতে বের করতে পারি, এটা হলো আমার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সরকারি নিয়মের ভেতর দিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।
প্রশ্ন : প্রথম ভিসি ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভিসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেট মেম্বাররাও অভিযোগ করছেন। এগুলোর ব্যাপারে আপনার করণীয় কী হবে?
উপাচার্য : আমি দায়িত্ব নিয়ে আসার পর কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না, এসব ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। অতীতে কে কী করেছে সেই বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি আমার কাজ না। আমি এখানে কারও বিচার করতে আসিনি। আমি জজও নই, ব্যারিস্টারও নই। আমার কাজ হলো, আমি এখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমি চাই সুনামগঞ্জ ও সিলেটবাসীর সহযোগিতা। যারা আমাকে সহযোগিতা করবে এই প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য।
প্রশ্ন : স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাভূমি একটি হাওর এলাকায়। পরিবেশ সচেতনতায় স্থান পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলমান।
এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন?
উপাচার্য: একটা জায়গা অধিগ্রহণ করার জন্য যে পর্যায়ে যেতে হয়, যে ধাপগুলো পেরিয়ে একনেকে উঠবে, একনেকের পরে এটা পাস হবে। এখন এই পর্যন্ত যাওয়ার পরে যদি স্থান বদলের কথা বলা হয়, তাহলে আরও তিন বছর লাগবে এই পর্যন্ত আনতে। এটা ছয় বছরে এই পর্যন্ত আসছে, এখন আমি ইনশাআল্লাহ তিন বছরে এই পর্যন্ত আনতে পারব। তাহলে লাভটা কী হলো? সামনে এগোনোর পরিবর্তে আমি নিচের দিকে চলে যাব।
প্রশ্ন : একটি বড় হাওর বাঁচাতে বলা হচ্ছে!
উপাচার্য: সুনামগঞ্জ তো পুরোটাই হাওর। তাহলে এই আন্দোলনের অর্থ কী? হাওরে বিশ্ববিদ্যালয় চায় না মানে তারা সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় চায় না।
প্রশ্ন : সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কি না?
উপাচার্য: আমি কোনো আন্দোলনকারীর সঙ্গে বসতে চাই না। আমি এখানে আন্দোলন করতেও আসিনি, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসতেও আসিনি। আমি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে আসছি। এই আন্দোলন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় না চাওয়া। প্রশ্ন : তাহলে হাওরেই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস?
উপাচার্য: তারা আন্দোলন করে যদি সুনামগঞ্জের পাঁচ এমপিকে একত্রিত করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাওরের পরিবর্তে অন্য কোনো জায়গা নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে আমরা সেখানেই যাব। তা ছাড়া কোনো আন্দোলনকারীর সঙ্গে আমি বসবও না, আলোচনাও করব না।
প্রশ্ন : তা না হলে তো বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামোয় একটি হাওর চিরতরে হারিয়ে যাবে, আর বিগত জমানার অধিগ্রহণ-বাণিজ্যে সক্রিয় সেই চক্র লাভবান হবে। উপাচার্য : নো কমেন্ট।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com