টেকসই সমাজ উন্নয়নে অবকাঠামো ও উপরিকাঠামোর যুগপৎ উন্নয়নের অপরিহার্যতা

আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ০৯:৩২:৪৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ০৯:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেরগুল আহমেদ::
১. ভূমিকা একটি গতিশীল ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে কেবল দৃশ্যমান ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। কার্ল মার্ক্সের সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব অনুযায়ী, সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক ও ভৌত উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর, যাকে বলা হয় অবকাঠামো (ইধংরপ ঝঃৎঁপঃঁৎব)। অন্যদিকে, এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে সমাজের চিন্তা, মূল্যবোধ, আইন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি, যাকে বলা হয় উপরিকাঠামো (ঝঁঢ়বৎ ঝঃৎঁপঃঁৎব)। একটি দেশের প্রকৃত ও টেকসই কল্যাণ নিশ্চিত করতে এই দুটি উপাদানের সমান্তরাল উন্নয়ন আবশ্যক। ২. অবকাঠামো ও উপরিকাঠামোর আন্তঃসম্পর্ক সমাজের এই দুটি স্তর একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। ভিত্তি ও বিকাশ: অবকাঠামো যদি সমাজের কঙ্কাল হয়, তবে উপরিকাঠামো হলো তার প্রাণ। পারস্পরিক প্রভাব: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা উন্নত রাস্তাঘাট (অবকাঠামো) মানুষের জীবনকে সচল করে। কিন্তু মানুষের চিন্তাভাবনার আধুনিকায়ন ও নৈতিকতার উন্নয়ন (উপরিকাঠামো) ছাড়া সেই সচ্ছলতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। ৩. শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা উপরিকাঠামোকে উপেক্ষা করে কেবল ভৌত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটালে সমাজে গুরুতর ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়: নৈতিক বিপর্যয়- মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বাড়লেও নৈতিক শিক্ষার অভাবে সমাজে দুর্নীতি ও বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। সম্পদের অপব্যবহার - উন্নত প্রযুক্তি, বড় রাস্তা বা বড় হাসপাতাল তৈরি হলেও জনগণের নাগরিক সচেতনতার অভাবে তা দ্রুত নষ্ট বা অপব্যবহৃত হয়। সহিংসতা ও উগ্রবাদ - পরমতসহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক উদারতার চর্চা না থাকলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজেও উগ্রবাদ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৪. যুগপৎ উন্নয়নের সুফল যখন অবকাঠামো ও উপরিকাঠামো একই সাথে উন্নত হয়, তখন সমাজ একটি আদর্শ রূপ লাভ করে। আইনের শাসন ও সুশাসন- বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং আইন ব্যবস্থার (উপরিকাঠামো) আধুনিকায়নের ফলে অর্থনৈতিক স¤পদের (অবকাঠামো) সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। মানব স¤পদ উন্নয়ন - উন্নত মানস¤পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা ও গবেষণাগার গড়ে উঠলে তা সরাসরি দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদনকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। দেশপ্রেম ও নাগরিক দায়িত্ব: শিল্পকলা, সাহিত্য ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় স¤পদের যতœ নেয় এবং আইন মান্য করে। ৫. টেকসই সমাজ বিনির্মাণের রূপরেখা উভয় কাঠামোর সুষম উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন: মানসম্মত শিক্ষা - শুধু নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ নয়, উন্নত পাঠ্যক্রম ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া। সাংস্কৃতিক জাগরণ - প্রতিটি স্তরে গ্রন্থাগার, থিয়েটার এবং ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করে তরুণ সমাজকে সুস্থ বিনোদন দেওয়া। আইনি সংস্কার ও সচেতনতা - ভৌত প্রযুক্তির (যেমন: ইন্টারনেট) পাশাপাশি সাইবার আইন ও ডিজিটাল লিটারেসির উন্নয়ন ঘটানো। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ - সহনশীলতা, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বাকস্বাধীনতার পরিবেশ তৈরি করা। ৬. উপসংহার : ভৌত অবকাঠামো একটি সমাজকে সমৃদ্ধির পথ দেখায়, কিন্তু উপরিকাঠামো সেই সমৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখে এবং তাকে মানবিক রূপ দেয়। সুতরাং, একটি শোষণমুক্ত, সাম্যবাদী ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে মেগা প্রজেক্ট বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা আজ সময়ের দাবি। [০১ জুলাই, ২০২৬খ্রি.]

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com