স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে হাওরের কান্দা ও বোরো-পরবর্তী অনাবাদি জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদকপুর এলাকায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ স্লোগানে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রের আয়োজনে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। বিসিসিটিএফের ‘পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চল অভিযোজন’ প্রকল্পের অর্থায়নে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হয়।
মাঠ দিবসে কৃষকদের বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১-এর চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলন ও বৈশিষ্ট্য স¤পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষকদের আউশ চাষে উৎসাহিত করা হয়।
জেলা বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, বিনাধান-১৯ ও ২১ আউশ মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ও খরাসহিষ্ণু জাত। জাত দুটির জীবনকাল প্রায় ১০০ থেকে ১০৫ দিন। সেচের প্রয়োজন কম হওয়ায় বৃষ্টির পানিতেই চাষ করা যায় এবং তুলনামূলক কম সার লাগে।
তিনি বলেন, এ বছর সুনামগঞ্জের হাওরের কান্দা এলাকার জমিতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে জাত দুটি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। বিনাধান-১৯-এর গাছ সহজে হেলে পড়ে না এবং এর চিকন ও ঝরঝরে চালের বাজারে চাহিদা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, যেখানে ধান চাষের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আবাদ বাড়াতে হবে। দেশের খাদ্য চাহিদার কথা বিবেচনা করে কৃষকদের অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, হাওরের যেসব জমিতে পানি ওঠেনি এবং বোরো কাটার পর খালি থাকে, সেসব জমিতে আউশ ধান চাষের সুযোগ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি জাত হওয়ায় দ্রুত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
কৃষক আব্দুল আকলিস বলেন, বোরো ধান ডুবে যাওয়ার পর বিনা অফিসের পরামর্শে বিনাধানের বীজ নিয়ে চাষ করেন তিনি। প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও সেচ ছাড়াই বৃষ্টির পানিতে ভালো ফলন পেয়েছেন।
মাঠ দিবসে কৃষক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।