স্টাফ রিপোর্টার :: মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন ও সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে দিরাইয়ে জাতীয় মৎস্যজীবী ও জাতীয় সমবায় মৎস্যজীবী সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহ¯পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে দিরাই উপজেলার পেরুয়া চকবাজার এলাকায় বিধান চন্দ্রের সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইসলাম উদ্দিন। ‘জাল যার, জলা তার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি বলেন, মৎস্যজীবীরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে দুমুঠো ভাতের সংস্থান করেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক দরিদ্র জেলের পক্ষে নিজস্ব জাল কেনাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। সরকারের উচিত সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা। একইসঙ্গে তিনি সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কাশেম। তিনি বলেন, দেশে প্রায় দুই কোটি মৎস্যজীবী রয়েছেন, যারা অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্বের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, দেশে প্রচলিত আইন থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিবন্ধন ও সমিতি ছাড়াই জোরপূর্বক জলমহাল লিজ নিচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া কাউকে জলমহাল লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই, এই আইনের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের মতো সুনামগঞ্জের জেলেদেরও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা চার মাস ভিজিএফ চাল পেলেও সুনামগঞ্জের জেলেরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার জেলেদের অনতিবিলম্বে এই ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সহ-সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির শতকোটি টাকার স¤পদ থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অসহায় মৎস্যজীবীদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। এই জটিলতা নিরসনে জাতীয় সমবায় মৎস্যজীবীর চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে একটি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও অসহায় মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সোলাইমান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান, মোসাদ্দেক আলী ও নোমানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মৎস্যজীবী নেতারা।