১৬ ঘণ্টার লোডশেডিং, মানুষের ভোগান্তি দ্রুত নিরসন করুন

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের গ্রামেগঞ্জে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ নিছক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর নয়; এটি জনজীবন, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ঘাটতির দায়ে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তা ও সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১২ উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলার চাহিদা যেখানে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি ভয়াবহ। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি যে সংকটজনক, এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কোথায়? গ্রাহকদের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না - তার কোনো নির্ভরযোগ্য সময়সূচি নেই। তার চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয়, জরুরি সেবা নম্বর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। একজন গ্রাহক যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকেন, তখন অন্তত সমস্যার কারণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানার অধিকার তাঁর রয়েছে। বিদ্যুৎ শুধু একটি সেবা নয়; আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি কর্মকা-ের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে সামনে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর, আইপিএস কিংবা পর্যাপ্ত আলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে দীর্ঘ লোডশেডিং তাদের শিক্ষাজীবনে সরাসরি বৈষম্য তৈরি করছে। অন্যদিকে প্রচ- গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় বয়স্ক, শিশু ও নারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্টুডিও, স্টেশনারি দোকান, রেস্টুরেন্ট, লাইব্রেরি, চালকল ও বিভিন্ন খামার। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পণ্য, কমছে আয়। অর্থাৎ লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু ঘরের বাতি নিভিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি গ্রামীণ অর্থনীতির গতিও মন্থর করে দিচ্ছে। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও গ্রাহকেরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট থাকলে গ্রাহকেরা নিশ্চয়ই তা বুঝবেন। কিন্তু সংকটের সময়ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল যোগাযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় কতক্ষণ লোডশেডিং হবে, কেন হচ্ছে এবং কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে - এসব তথ্য নিয়মিতভাবে জানানো জরুরি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। জরুরি সেবা নম্বর যদি জরুরি সময়ে কাজে না আসে, তাহলে সেই নম্বর রাখার যৌক্তিকতা কী? সাধারণ গ্রাহকের ফোন না ধরার সংস্কৃতি কোনোভাবেই একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জের বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত জাতীয় গ্রিড ও সংশ্লিষ্ট বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি প্রকাশ ও তা যথাসম্ভব মেনে চলা, জরুরি ফোন নম্বর সচল রাখা এবং গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নি®পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। সুনামগঞ্জের মানুষ বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে কোনো অনুগ্রহ চাচ্ছেন না; তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য সেবা চাইছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহির ঘাটতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংকে স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com