সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সিলেটে হাসপাতালে আইসিইউ বেড না পাওয়ায় হামে আক্রান্ত আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার (৯ আগস্ট) বেলা ১টায় সিলেটের একমাত্র হাম ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আয়ান নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির গ্রামের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজারে।
শিশুটির বাবা মোরশেদ আলম ও মা খোরশেদা বেগমের দাবি, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ না পেয়ে পরে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তারা।
তাদের অভিযোগ, শামসুদ্দিন হাসপাতালে আনার পর শিশুটির অক্সিজেন প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। তবে তাদেরই সেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে আনতে বলা হয়। এরপর আইসিইউর প্রয়োজন হলেও আইসিইউ দেওয়া হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর শিশুটির মৃত্যু হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের। বাবা-মায়ের প্রশ্ন, রোগী মারা যাওয়ার পরেই কীভাবে আইসিইউতে শয্যা খালি হলো? এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তান হারানো এই দ¤পতি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি ছিল বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। কিন্তু সেখানকার লিখিত অনুমোদন ছাড়া তারা এখানে চলে আসেন। আগে থেকে বলে না আসায় তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ ব্যবস্থা করা যায়নি।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটি যখন এখানে আসে, তখন আইসিইউ খালি ছিল না। তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে আইসিইউ খালি হওয়া সাপেক্ষে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই রোগী মারা যায়।
তিনি আরও জানান, শিশুটি প্রথমে মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে তাকে ওসমানীতে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ওসমানীতে ভর্তি থাকা কোনও রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হলে সেখান থেকেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা যোগাযোগ করে এখানে আইসিইউ’র ব্যবস্থা করেন। কিন্তু, মারা যাওয়া শিশুর স্বজনরা হয়তো কারোর পরামর্শে ওসমানীর ছাড়পত্র না নিয়েই শামসুদ্দিনে চলে আসেন। যে কারণে আইসিইউ বেড ম্যানেজ করতে কিছুটা সময় ক্ষেপণ হয়েছে।
এই মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান। আইসিইউ প্রয়োজন হলে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রোগী স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও জানান, ১০০ বেডের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১৩৫ জন রোগী। - বাংলা ট্রিবিউন