দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার পরও জ্বালানি সংকটে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে - এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
১১ আগস্ট রাতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের তথ্যটি সংকটের গভীরতা স্পষ্ট করে। পরদিন দুপুর ও বিকেলেও ঘাটতি ছিল দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বিদ্যুতের এমন ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাস সরবরাহ সংকটের কথা বলা হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারলে স্থাপিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার সুফল জনগণ পাবে না - এটাই স্বাভাবিক।
তবে জ্বালানি সংকটকে কেবল পরিস্থিতির ব্যাখ্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে - এটি প্রতিবছরই অনুমেয়। তারপরও যদি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকে, তা পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা ছাড়া আর কী?
লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ছে কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষার্থী ও অনলাইনভিত্তিক কর্মজীবীদের ওপর। রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিতরণব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।
তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বাস্তবসম্মত রেশনিং ও সুষম বিতরণ। আর দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে রুফটপ সোলারের প্রসার ঘটাতে হবে। আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ সংকট কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়; এটি মোকাবিলায় দরকার দূরদর্শী পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও কার্যকর বাস্তবায়ন।