সন্তান হত্যার বিচার হোক

আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৬:৪৫:৩৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৬:৪৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
সন্তান হারানোর বেদনা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর শোকগুলোর একটি। আর সেই সন্তান যদি নিজের বাবার হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়, তাহলে সেই বেদনা শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না - তা পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। দিরাইয়ে দুই শিশু মুহাদ্দিস ও তুলনাকে হত্যার ঘটনায় তাদের মায়ের কান্না ও আকুতি আমাদের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেড়ানোর কথা বলে দুই সন্তানকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা এবং পরে মরদেহ হাওরে ফেলে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ ও নৃশংস। আরও উদ্বেগের বিষয়, হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে নিখোঁজের নাটক সাজানোর অভিযোগও উঠেছে। একজন বাবা সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। সেই আশ্রয়দাতা যদি হত্যাকারীতে পরিণত হন, তাহলে পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাবোধই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এ ঘটনায় আবেগের বশে শুধু সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে। এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না - সবকিছু তদন্তের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আদালতে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই হত্যাকান্ড- আমাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে- পরিবারের ভেতরে দীর্ঘদিনের বিরোধ, মানসিক অস্থিরতা কিংবা দাম্পত্য সংকটকে আমরা কতটা গুরুত্ব দিই? সংকটের শুরুতেই পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মুহাদ্দিস ও তুলনা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। কিন্তু তাদের নির্মম মৃত্যু যেন কেবল একটি মর্মান্তিক খবর হয়ে না থাকে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে সমাজকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে- সন্তান হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com