হাওরের জনপদ থেকে এবার মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি চান মানুষ

আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৬:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৬:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা- জাতীয় রাজনীতিতে জেলার একজন অভিজ্ঞ ও তৃণমূলভিত্তিক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখা। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে এখন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তাকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সুনামগঞ্জের মানুষের অভিযোগ, দেশের অন্যতম পশ্চাৎপদ ও দুর্যোগপ্রবণ হাওরাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় নীতিনির্ধারণে জেলার মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো বরাবরই যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। হাওরের কৃষি, ফসল রক্ষা বাঁধ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৎস্যসম্পদ ও কর্মসংস্থানসহ নানা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব। এ কারণে এবার জেলার একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান তারা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার তালিকায় কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে এগিয়ে রাখার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং ছাতক-দোয়ারাবাজারের তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তিনি বিএনপির জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন। ছাতক-দোয়ারাবাজার নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতেও কলিম উদ্দিন মিলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক বিজয়ী হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক সংকটের বিভিন্ন সময়ে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ফলে তার রাজনৈতিক পরিচয় শুধু নির্বাচনী রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; দলীয় সংগঠন পরিচালনা ও তৃণমূলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রেও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে তার বিজয়কে স্থানীয়রা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নতুন স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন অভিজ্ঞ নেতাকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে তা ব্যক্তি বা দলের জন্যই শুধু নয়, পুরো সুনামগঞ্জের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। সুনামগঞ্জের বাস্তবতা দেশের অন্য অনেক জেলার চেয়ে আলাদা। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা হাওরবেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্যনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা প্রকৃতি ও মৌসুমি বন্যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অকালবন্যা কিংবা ফসল রক্ষা বাঁধে বিপর্যয় দেখা দিলে এক মৌসুমের বোরো ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো কৃষক। বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মসংস্থানের সংকটও দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে ছাতক একটি ঐতিহাসিক শিল্পাঞ্চল। সিমেন্ট কারখানা, রেল যোগাযোগ, নদীবন্দর ও নৌপথসহ এ অঞ্চলের রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। শিল্পায়ন, রেল ও নৌ যোগাযোগের উন্নয়ন এবং সীমান্তবাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাতীয় পর্যায়ের কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। দোয়ারাবাজারেও কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বেশি। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ছাতক-দোয়ারাবাজারসহ পুরো সুনামগঞ্জের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুর রহমান সামছু, যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুর রহমান বাবুল, ইউপি বিএনপি নেতা নজির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য আশরাফুর রহমান এলাম, বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান সাদিক, এমাদ উদ্দিন এমাদ এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিন উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা মনে করেন, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেলে সুনামগঞ্জের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পাবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হাওর রক্ষা, কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং হাওরাঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মতো বিষয়গুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে আসুক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুনামগঞ্জ থেকে একজন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে জেলার মানুষের মধ্যে। সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই এবার কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একজন নেতাকে মন্ত্রী করার আকাক্সক্ষা নয়, বরং দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা হাওরাঞ্চলের মানুষের কথা জাতীয় নীতিনির্ধারণের টেবিলে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যাশা। হাওরের জনপদ এখন দেখতে চায়, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি শুধু সংসদে নয়, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাদের কথা বলার সুযোগ পান। সেই প্রত্যাশায় কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে ঘিরে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com