ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন এখন সুনামগঞ্জের বহু পরিবারের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত মার্চে জেলার ১২ তরুণের সাগরে প্রাণ হারানোর ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আবারও পাঁচ তরুণের নিখোঁজ হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই ঘটনায় আরও একজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। প্রশ্ন হলো- আর কত প্রাণ গেলে অবৈধ মানবপাচারের এই নির্মম বাণিজ্য বন্ধ হবে?
অভাব, বেকারত্ব ও উন্নত জীবনের আকাক্সক্ষাকে পুঁজি করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দালালচক্র তরুণদের কাছে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন বিক্রি করছে। পরিবারগুলো জমি, গবাদিপশু ও শেষ সম্বল বিক্রি করে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলে দিচ্ছে দালালদের হাতে। এরপর লিবিয়া থেকে ‘গেম’ নামের ভয়ংকর সাগরযাত্রায় পাঠানো হচ্ছে তাদের। অথচ এই যাত্রার পরিণতি যে মৃত্যু, নিখোঁজ কিংবা আজীবন অনিশ্চয়তা হতে পারে - তা জেনেও প্রতারক চক্র থেমে নেই।
আরও উদ্বেগের বিষয়, নিখোঁজ তরুণদের পরিবারের সদস্যরা দালালদের প্ররোচনা ও হুমকির কারণে মুখ খুলতে চাইছেন না। এটি শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংঘবদ্ধ মানবপাচারের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ফলে প্রশাসনের দায়িত্বও এখানে আরও বেশি।
নিখোঁজ পাঁচ তরুণের সন্ধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জে মানবপাচারকারী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু দালাল ধরলেই হবে না, তাদের পেছনের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, মানুষকে সচেতন করা। বিদেশ যাওয়ার নামে অনিরাপদ সাগরযাত্রা যে কোনো মূল্যে নিরুৎসাহিত করতে হবে। বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান ও বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। একজন তরুণের ইউরোপযাত্রার স্বপ্ন যেন তার পরিবারের জন্য আজীবনের কান্নায় পরিণত না হয় - এ দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবার।