প্রতিবাদের মুখে বন্ধ হলো চার হাজার বৃক্ষ কর্তন, তদন্ত কমিটি গঠন

আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৮:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৮:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের সাড়ে চার হাজার গাছের মধ্যে প্রায় অর্ধেক গাছ কাটার পর গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের প্রতিবাদ, পরিবেশ আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ সামাজিক প্রতিবাদের মুখে জেলা পরিবেশ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক রবিবার সকালে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এর আগেই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২৫ বছর আগে লাগানো বৃক্ষ বন বিভাগ ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বৃক্ষ কাটার অনুমতি দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। জানা গেছে, সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কের ১২টি লটে প্রায় ২৫ বছর আগে সামাজিক বনায়ন কর্মর্সূচির আওতায় বৃক্ষ লাগানো হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিবেশ কমিটির সভায় এই সড়কসহ সুনামগঞ্জ সিলেট, সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুর সড়কের কাজ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বৃক্ষ কাটার সিদ্ধান্ত হয়। অন্য দুটি সড়কে সড়ক বিভাগের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ চললেও সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কে সম্প্রসারণ কাজ ছিলনা। তাই এই সড়কটির প্রায় সাড়ে চার হাজার বৃক্ষ কর্তন নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কিছুদিন ধরে এই সড়কটির ১২টি লটের গাছ কাটা শুরু করে ঠিকাদাররা। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করছিলেন। ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছিলেন উপকারভোগীরা। কিন্তু এসবের পাত্তা না দিয়ে বনবিভাগের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে ঠিকাদাররা গাছ কাটা অব্যাহত রাখে। এ নিয়ে একটি পরিবেশ সংগঠনের ব্যানারে গত ২২ আগস্ট সাচনাবাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পাশাপাশি জেলাব্যাপী বৃক্ষ কর্তন নিয়ে প্রতিবাদ ওঠে। বন বিভাগের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে গাছ কাটা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠলে জেলা পরিবেশ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান রবিবার সকালে তার কার্যালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করেন। সড়কের বৃক্ষ কর্তন নিয়ে প্রশাসন বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন, সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেন। তখন বন বিভাগের কর্মকর্তা জানান ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বৈঠকে উপস্থিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানান, সাচনা সুনামগঞ্জ সড়ক সম্প্রসারণের কোনও কাজ ছিলনা। তাই এই সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি জানেন না। তাই গাছ কাটার বিষয়ে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোয়াশা দেখা দেওয়ায় জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বৃক্ষ কর্তন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, বন বিভাগ লুকোচুরির মাধ্যমে অনুমোদন ছাড়াই সাড়ে ৪ হাজার বৃক্ষ পানির দামে মাত্র ৮৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ এই বৃক্ষের দাম হবে অন্তত ২০-২৫ কোটি টাকা। সরকারি কোনও উন্নয়নযজ্ঞ ছাড়াই নিজেদের লাভের আশায় বন বিভাগ অন্যায়ভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে বৃক্ষগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। আজ শুনতে পেরেছি বৃক্ষ কাটার অনুমোদনই নেই। তাই এর পিছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক গাছ কাটা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ঠিকাদারদের গাছ কাটা বন্ধে নির্দেশনা দিয়েছি। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে জেলা পরিবেশ কমিটির মিটিংয়ে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সুপারিশের আলোকেই ঠিকাদার নিয়োগ করে গাছ কাটা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয় তার জানা নেই বলে জানান তিনি। সুনামগঞ্জের অতিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার আজ জরুরি মিটিং ডেকেছিলেন। সেখানে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন এই সড়ক সম্প্রসারণের কোনও কাজ নেই। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি মিটিং হয়েছিল। সেই মিটিংয়ে এই সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছে কি না আমরা জানিনা। এ কারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত করে কোনও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com