বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারও নেই জনবল সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৭:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৮:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। সামান্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে গেলে রেফার করা হয় জেলা সদর হাসপাতালে। জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর অবস্থা একটু জটিল মনে হলেই পাঠিয়ে দেয়া হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই অবস্থায় কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত উপজেলাবাসী। তারা জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসহকারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪জন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই পদে ১জনও কর্মরত নেই। এসিস্ট্যান্ট সার্জন ৫ জনের ৫টি পদই খালি। জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী, সার্জারি ও মেডিসিনের ১জন করে পদ থাকলেও এসব পদও খালি পড়ে আছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেসথেসিয়া পদটিও খালি। আবাসিক মেডিকেল অফিসারও নাই। এসিসট্যান্ট সার্জন, মেডিকেল অফিসার পেডিয়াট্রিক ও মেডিসিন ১জন করে পদ থাকলেও শূন্য আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসিস্ট্যান্ট মেডিকেল অফিসার অপটোমালজি পদটিও শূন্য। ২৩ জন নার্সের মধ্যে ৯জনের পদ শূন্য। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদের দুটিই শূন্য। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওলজি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্টাল, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এস. আই) ১জন করে পদ থাকলেও এসব পদে একজনও কর্মরত নাই। ফার্মাসিস্ট ২ জনের মধ্যে ১জন, সাব এসিসট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ২জনের ১জন রয়েছেন। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ৫ জনের ক্লিনিং স্টাফের পদ থাকলেও এই পদে ১জনও কর্মরত নেই। এছাড়াও অন্যান্য পদেও লোকবল না থাকায় দাপ্তরিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। হাওর ও দুর্গম সীমান্ত নিয়ে বিস্তৃত বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। দেড় লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস এই উপজেলায়। উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক সংকট সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করছে বলে মনে করেন সুধীজন। উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের হিমাংশু বর্মণ বলেন, আমরা হাসপাতালে গেলে বড়ো রোগের চিকিৎসা পাইনা। হাসপাতালে ডাক্তার নাই। সামান্য অসুখ অইলে সুনামগঞ্জে যাইতে অয়। সুনামগঞ্জে গিয়াও ডাক্তার পাইনা। সিলেট পাঠাইয়া দেয়। রাধানগর গ্রামের রুহুল আমীন বলেন, আমরার উপজেলায় হাওর ও পাহাড় রয়েছে। সেবার জন্য অনেক কষ্ট করে লোকজন আসেন। কিন্তু অনেক সময় বড়ো অসুখ ও বা দুর্ঘটনা নিয়ে আসলে চিকিৎসা না পেয়েই রেফার করা হয়। এতে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়। ভালা ডাক্তার না দিলে এই সমস্যার সমাধান হবেনা। মুক্তিখলা গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমরার হাসপাতালো ডাক্তার নাই। ভালা চিকিৎসা মিলেনা। ওষুধও মিলেনা। আমরা রোগ শোক নিয়া দুর্ভোগে আছি। সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. যশোবন্ত ভট্টাচার্য্য বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বহুমুখি সংকট চলছে। এসব সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে যে জনবল আছে তা দিয়ে যাতে মানুষের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও মানুষ যাতে জরুরি সেবা পায় সেটা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com