সাম্যের কবি নজরুল ও তাঁর ‘নারী’ কবিতা : সমতার এক চিরন্তন দলিল

আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ০৮:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ০৮:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন
:শেরগুল আহমেদ : কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সেই অনন্য কণ্ঠস্বর, যিনি সব ধরনের বৈষম্য, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন কলম ধরেছেন। তাঁর ‘নারী’ কবিতাটি কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং সমাজে নারী ও পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার এক জোরালো ইশতেহার। আজ থেকে বহু বছর আগে রচিত এই কবিতা বর্তমান যুগেও লিঙ্গসমতা ও নারী অধিকার আন্দোলনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা। কবিতার শুরুতেই কবি কোনো দ্বিধা না রেখে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন- “সাম্যের গান গাই[ আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!” এই দুই লাইনের মধ্য দিয়েই নজরুল তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের বুকে এক চরম আঘাত হেনেছিলেন। কবি বিশ্বাস করতেন, মানব সভ্যতার বিকাশ ও বিনির্মাণে নর এবং নারী উভয়ের অবদানই সমান। জগতের যত বড় বড় সৃষ্টি, মহৎ অভিযান কিংবা কল্যাণকর কাজ হয়েছে, তার পেছনে পুরুষের বীরত্বের পাশাপাশি নারীর ত্যাগ, মমতা আর অনুপ্রেরণা জড়িয়ে আছে। কবি চমৎকারভাবে লিখেছেন- “বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” নজরুল তাঁর কলামে ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, ইতিহাসে পুরুষের তরবারি ও যুদ্ধের বীরত্বগাথা লেখা থাকলেও, তার পেছনে কত মায়ের অশ্রু আর কত বোনের হৃদয়ের রক্ত মিশে আছে, তা সমাজ মনে রাখেনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সবসময় নারীর অবদানকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছে, নারীকে সাজিয়ে রাখতে চেয়েছে কেবল গৃহকোণের বন্দি করে। কিন্তু নজরুল আশাবাদী ছিলেন। তিনি ‘সাম্যের যুগ’ বা ‘নতুন যুগের’ আগমনী বার্তা শুনিয়েছেন, যেখানে কেউ কাউকে বন্দি করে বা শোষণ করে রাখতে পারবে না। তিনি পুরুষ সমাজকে সতর্ক করে বলেছেন, নারীকে দাসী বা বন্দি করে রাখলে আসলে পুরুষ নিজেও কোনোদিন মুক্ত হতে পারবে না। কারণ, অন্যকে বন্দি রাখলে নিজের মুক্তিও অসম্ভব। আজকের একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন আর সমতার কথা বলছি, তখন নজরুলের এই ‘নারী’ কবিতা আমাদের চেতনাকে নাড়া দেয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী ও পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা অপরিহার্য। নজরুল তাঁর কবিতার মাধ্যমে সমাজকে সেই সত্যই উপলব্ধি করাতে চেয়েছিলেন - যেদিন নর ও নারী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সমান মর্যাদা পাবে, সেদিনই পৃথিবীতে প্রকৃত সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com