স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরাঞ্চলের কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীদের জীবন জীবিকা রক্ষা এবং হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স¤পদ সংরক্ষণের দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১০ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটি’র ব্যানারে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা শহরের আলফাত স্কয়ারে এক প্রতিবাদ ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সাড়ে ১২টার দিকে সর্বস্তরের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সমন্বয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। পরে দুপুর ১টায় সংগ্রাম কমিটির একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিবছর অতিবৃষ্টি, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। এছাড়া নদী ও হাওর থেকে অবৈধভাবে বালু মাটি উত্তোলন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং ঐতিহ্যবাহী জলমহাল ইজারা প্রথার কারণে সাধারণ কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উপযুক্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েও ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ১০টি দাবি হলো- হারভেস্টার মেশিন বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা এবং কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া। মহাসিং নদী থেকে সৃষ্ট ‘উথারিয়া গাং’-এর ইজারা অবিলম্বে বাতিল করে এটিকে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণা করা এবং সাধারণ মৎস্যজীবীদের অবাধ মৎস্য আহরণের সুযোগ দেওয়া। অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং প্রাকৃতিক স¤পদ ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোকে টানা ছয় মাসের খাদ্য সহায়তা প্রদান, বিনামূল্যে গবাদিপশুর খাদ্য ও চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা এবং গ্রাম পর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সকল সরকারি কৃষিঋণ মওকুফ করা এবং মহাজনী ঋণের শোষণের হাত থেকে তাদের মুক্ত করতে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া। হাওরাঞ্চলে সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন চালু করা, সার-বীজ-কীটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি ধান কেনা। ডুবো সড়কের পরিবর্তে হাওরের মূল সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বছরজুড়ে ব্যবহার উপযোগী উঁচু পাকা সড়ক নির্মাণ করা। হাওরাঞ্চলে কার্যকর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে টেকসই ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ও স্লুইসগেট (জলকপাট) নির্মাণে স্থানীয় কৃষক-জনগণকে যুক্ত করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক সাহেব আলী, ফয়জুল খাঁ, আব্দুল ওয়াহাব, সফাত উল্লাহ, আবিদুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপি জমাদান শেষে মুখ্য সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন জানান, হাওরের মেহনতি মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই আমরা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।