স্টাফ রিপোর্টার ::
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার ৪৮তম বার্ষিকীতেও ঐক্যের দেখা মেলেনি দিরাই উপজেলা বিএনপিতে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের দুই বলয় পৃথকভাবে মিছিল, র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করার পর এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও বিভক্তির চিত্র প্রকাশ্যে আসায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বলয় দিরাই পৌরশহরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবির মিয়া, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাপ মিয়া, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সরদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীবিরোধী হিসেবে পরিচিত বলয় পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খ- খ- মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা দিরাই পৌরশহরের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ূম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলীয় ও জাতীয় বিভিন্ন কর্মসূচি এর আগেও দুই বলয় পৃথকভাবে পালন করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেও দুই পক্ষের পৃথক আয়োজন দলীয় বিভক্তিকে আরও ¯পষ্ট করেছে।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, নাছির উদ্দীন চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলে এ ধরনের প্রকাশ্য গ্রুপিং ও লবিং ছিল না। তাঁর অসুস্থতার সুযোগে দলের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে যেভাবে বিভক্তি বাড়ছে, তাতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন। দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে এনে সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে কাজ করার পরিবেশ তৈরির দাবি জানান তারা।
তাদের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো দলের ঐক্য ও আদর্শের প্রতীকী দিনে পৃথক কর্মসূচি দিরাই বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ দূরত্বের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত এই বিভক্তির অবসান না হলে এর প্রভাব আগামী দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।