স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম চন্দ্র বর্মণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার চন্দ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার চাতক চাকমা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল হোসেন এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শওকত আলী আহমেদ। বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন, মো. আমিনুল ইসলাম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শেখ উম্মে মাদুয়া।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজেও। শিক্ষাজীবনে মাদকের সংস্পর্শে এলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়, স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, অনেক সময় বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে তরুণদের মাদকের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়। কোনো বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তি মাদক গ্রহণে উৎসাহিত করলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। মাদককে বন্ধুত্ব কিংবা আধুনিকতার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং মাদকের দিকে ঠেলে দেয় এমন ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তারা।
সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি কিশোরীদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ হারায়। একটি মেয়েকে শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুললে পরিবার ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহের কোনো উদ্যোগ বা চাপের বিষয় গোপন না রেখে অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।