৫০ বছরেও হয়নি সড়ক

বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের

আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৮:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৮:৫২:৪২ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি::
বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই পিচ্ছিল হয়ে ওঠে বাঁশের সাঁকো। এক পা ভুল হলেই নিচে পড়ে যাওয়ার শঙ্কা। তবুও থেমে থাকে না পথচলা। জীবনের প্রয়োজনে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়েই চলতে হয় নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের। একটি নিরাপদ সড়কের আশায় এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর। বারবার আবেদন-নিবেদন করেও মেলেনি সমাধান। ফলে কয়েক হাজার মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো। দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের এমন চিত্র। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার করা গেলেও বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় গ্রামবাসীকে। সাঁকো থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেকের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন তাদের পার হতে হয় এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। বৃষ্টির দিনে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে তাদের লেখাপড়াও। মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। এতে তাদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। একটি সড়ক নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার পরিবেশও আরও ভালো হবে। মধুপুর গ্রামের সুবায়েল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি সড়কের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বর্ষাকালে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, গ্রামের নারী, শিশু ও বয়স্ক সবাইকে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। বৃষ্টি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা কষ্ট করছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এখানে একটি সড়ক নির্মাণ করা হোক। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবাইদা বলে, বৃষ্টি হলে সাঁকো দিয়ে স্কুলে যেতে ভয় লাগে। সাঁকো পিচ্ছিল থাকে, পড়ে যাওয়ার ভয় হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতেও সমস্যা হয়। এখানে রাস্তা হলে আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব। গ্রামবাসীর দাবি, যুগের পর যুগ তারা সড়কের আশ্বাস শুনে এলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখেননি। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু মধুপুর গ্রামের মানুষের যোগাযোগের দুর্ভোগ কাটে না। একটি সড়কের অভাবে এখনও বাঁশের সাঁকোই তাদের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। তাই দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান এবং কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত মধুপুর গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে চরনারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় বলেন, সড়কটি নির্মাণে আমার আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও মাটির বরাদ্দ না পাওয়ায় এখনো সড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সড়ক না থাকায় পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আমিও চাই, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com