স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিডি এলজি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তখন উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের সামনেই তিনি ভবন ঘুরে দেখেন এবং অনিয়মের চিহ্ন দেখে দ্রুত কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি কাজ যথাযথ না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট বিল পরিশোধ না করারও নির্দেশনা দেন তিনি।
উল্লেখ্য উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি সুনামকণ্ঠে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরিনা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রতিটি ধাপে ধাপে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে।
পাইলিং, নির্মাণ, রংকাজ, ডেকোরেশন, ফার্নিচার, দরজা, জানালা, গ্রিল, স্যানেটারি সামগ্রীও প্রাক্কলন অনুসারে সরকার নির্ধারিত কম্পানির পণ্য ব্যবহার করেনি। কিউরিং না করেও কিউরিংয়ের পুরো বিল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যাচ্ছেতাইভাবে কাজ করে এভাবে কাজ করে দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা তদারকি করার কথা থাকলেও তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সেটা করেননি এমন অভিযোগ আছে। তাছাড়া শিডিউল অনুযায়ী সামগ্রী ব্যবহার না করার পরও শিডিউলে ধরা মূল্যই ঠিকাদারকে পরিশোধ করে সরকারি টাকা অপচয় করেছে সংশ্লিষ্টরা। এসব বিষয়ে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশ হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
বুধবার দুপুরে কমিটির প্রধান অসীম চন্দ্র বণিকের নেতেৃত্বে কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে এসে কাজে ত্রুটি দেখতে পেয়ে কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি বর্তমানে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে নেই। আমার সময়ে কোনও অনিয়ম হয়নি। বর্তমান প্রকৌশলী মো. মঈনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল ধরেননি।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিডি এলজি অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমি বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজে নানা ত্রুটি পেয়েছি। সেই ত্রুটি সংশোধন করার নির্দেশনা দিয়েছি ঠিকাদারকে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিল পরিশোধ না করার নির্দেশনা দিয়েছি। সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রতিবেদন আমি শিঘ্রই মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবো।