অযত্নে ধর্মপাশা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ৬ বছরেও কাজে আসেনি ভবন, ভাড়া হয়নি ১৪ দোকান

আপলোড সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন
সাইফ উল্লাহ :: যাদের আত্মত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য নির্মিত ভবনই এখন পড়ে আছে অযতœ-অবহেলায়। প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ধর্মপাশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি উদ্বোধনের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যত কোনো কাজে আসছে না। ভবনের দুই তলায় থাকা ১৪টি দোকানঘরের একটিও ভাড়া হয়নি। ফলে আয়বর্ধক কার্যক্রম তো দূরের কথা, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধারাও পাচ্ছেন না প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কংস নদের পাড়ঘেঁষা ভবনটির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। মূল ফটকের সামনে জমে আছে বালুর স্তূপ। দীর্ঘদিনের অযতেœ লোহার গেটে ধরেছে মরিচা। সীমানাপ্রাচীরের ভেতরেও পড়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রীর উচ্ছিষ্ট বালু। অথচ ভবনটির পাশের সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হাজারো মানুষ চলাচল করেন। এরপরও ভবনটির বর্তমান বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনিক কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি, ধর্মপাশা থানার কিছুটা পূর্বে কংস নদের পাড়ে নির্মিত হয় এই কমপ্লেক্স। ২ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে। নির্মাণকাজ করে বাছেদ ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ। পরে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা বাণিজ্যিকভাবে দোকান ও হলরুম ভাড়া দিয়ে আয় করার জন্য এবং তৃতীয় তলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় ও সম্মেলন কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের কথা। মূল উদ্দেশ্য ছিল আয়বর্ধক কর্মকা-ের মাধ্যমে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, দুই তলায় মোট ১৪টি দোকানঘর থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো দোকানই ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ভবনটি থেকে কোনো আয়ও হচ্ছে না। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় ভবনটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত যাতায়াতও নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ভবনটির অবস্থান ও নকশাগত সীমাবদ্ধতাই এর প্রধান প্রতিবন্ধকতা। প্রধান সড়কের উল্টো পাশে এবং সীমানাপ্রাচীরের আড়ালে ভবনটি থাকায় বাইরে থেকে সহজে চোখে পড়ে না। পূর্ব পাশে থাকা মূল ফটকও প্রধান সড়কমুখী নয়। ফলে ব্যবসায়ীরা দোকান ভাড়া নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা কালা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন ভবনে আমাদের আসা-যাওয়া নেই। কমিটি না থাকায় এমন অবস্থা হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় ভবনটি মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কাজেই আসছে না। যে উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এত স্পর্শকাতর একটি বিষয় এভাবে পড়ে আছে - এর কারণ আমি জানি না। বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ সেখানে যাতায়াত করেন না। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারাও এখান থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ভবনটি করা হলেও সড়কমুখী না হওয়ায় কোনো অংশই ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। অবিলম্বে মূল ফটক ও প্রথম তলার কক্ষগুলো প্রধান সড়কমুখী করে পুনর্নির্মাণ করা দরকার। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন বলেন, ভবনের প্রথম তলার কক্ষগুলো প্রধান সড়কমুখী করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, আয়বর্ধক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের এমন অবস্থায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের জন্য নির্মিত ভবন ধুলায় পড়ে থাকা জাতির জন্য লজ্জার। দ্রুত অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের অস¤পূর্ণ ও অকার্যকর অংশগুলো সংস্কার করে ভবনটিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com