স্টাফ রিপোর্টার ::
গণসংগীত ও অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় দৈনিক সুনামকণ্ঠ কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি প্রভাষক দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ স¤পাদক অনুপ তালুকদারের সঞ্চালনায় ‘বাউল স¤্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন, দর্শন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম।
বিশেষ আলোচক ছিলেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের স¤পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায় এবং শাল্লা সরকারি কলেজের প্রভাষক বিপ্লব হোম নান্নু।
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন শায়খুল হাদিস প্রভাষক মো. হাবিবুল্লাহ আছকির তালুকদার, প্রভাষক শেখ মোশাররফ হোসেন, মো. সাজাউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শাহ আব্দুল করিম ছিলেন সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন গণমানুষের শিল্পী। দারিদ্র্য, অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি গান রচনা ও সুরসৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের কথা বলেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর গান মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে।
তাঁরা বলেন, গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, বিরহ, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিকতার নানা দিক উঠে এসেছে তাঁর গানে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত হয়েছে। মৃত্যুর পরও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গান ও দর্শনের আবেদন ক্রমেই বেড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, তাঁর ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না’, ‘আমি কূলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘রঙিলা বারই রে’, ‘সখী তোরা প্রেম করিও না’, ‘আমার মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’সহ অসংখ্য গান মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শাহ আবদুল করিম তাঁর গান ও দর্শনের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলা লোকসংগীতের অমূল্য স¤পদ। বক্তারা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে কবিতা পাঠ করেন প্রভাষক শেখ মোশাররফ হোসেন, মানব তালুকদার, মো. আলমগীর শাহ, আনোয়ারুল হক, শাহ মো. কামরুজ্জামান, সুরঞ্জিত গুপ্ত রঞ্জু, মনি তালুকদার ও মমিনুল আলম প্রমুখ। পরে বাউল স¤্রাট শাহ আবদুল করিমের লেখা গান পরিবেশন করেন শিশু শিল্পী মিসবাহ উদ্দিন।