স্টাফ রিপোর্টার :: ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান - ২০২৬’ পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সদর পৌরসভার প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিএনসিসি, স্কাউটস, গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের নেতৃত্বে সদর পৌরসভার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা পৌর শহরের কামারখাল ও চাঁদনীঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নদী ও নদীর তীরসহ আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অভিযানকালে স্থানীয় জনগণকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং নদী ও নদীর তীরে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যার কথাও শোনা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে নদী ও নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, নদী, নদীর তীর কিংবা জনসাধারণের চলাচলের স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি থাকবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পরিবেশ দূষণ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন সুনামগঞ্জ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নদী ও নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।