উকিলপাড়ার পুকুর যেন ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৯:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৯:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের উকিলপাড়ার সরকারি পুকুরটি এখন যেন ময়লার ভাগাড়। পানির বড় অংশ শেওলা ও পরগাছায় ঢেকে গেছে। পুকুরপাড়ে জমে আছে ময়লা আবর্জনা। এতে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, বাড়ছে মশার উপদ্রব। রাত হলে আশপাশে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বের হওয়ার অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের। ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটির বিভিন্ন অংশ শেওলা ও বড় বড় পরগাছায় আচ্ছাদিত। পুকুরপাড়ে পড়ে আছে ময়লা আবর্জনা। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়ায় জলাশয়টির স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরটির পাশেই রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্কুল। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ পুকুরপাড়ের রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। দুর্গন্ধ ও মশার কারণে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শওকত ওয়াসিদ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় খুব দুর্গন্ধ বের হয়। এতে আমরা অসুস্থবোধ করি। পৌরসভার উচিত খুব দ্রুত পুকুরের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দেওয়া। স্থানীয় বাসিন্দা প্লাবন দাস বলেন, একটি সরকারি পুকুর এভাবে বছরের পর বছর অপরিচ্ছন্ন পড়ে থাকতে পারে না। পুকুরের পানি শেওলা ও পরগাছায় ঢেকে গেছে, চারপাশে ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যখন শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে, তখন পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার এই পুকুরটি কেন নজরদারির বাইরে থাকবে এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে। দ্রুত পুকুর পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পুকুরপাড়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাপস কান্তি দাস বলেন, পুকুরটির বর্তমান অবস্থা শুধু দৃষ্টিকটু নয়, এটি আশপাশের মানুষের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুকুরপাড়ে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশার উপদ্রব বেড়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের প্রতিদিন এই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। পৌরসভা দ্রুত পুকুরটি পরিষ্কার করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করুক। শুধু একবার পরিষ্কার করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এখানে ময়লা ফেলতে না পারে, সে ব্যবস্থাও করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি এই পুকুরে সবাই ¯œান করতো, বরশি দিয়ে মাছ ধরতো। বিকেল হলে পুকুরপাড়ে আড্ডা জমতো। এখন সেই পুকুরের চেহারা বদলে গেছে। পুকুরপাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মানুষ নাক বন্ধ করে চলাচল করে। ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য অনেকবার পৌরসভায় গিয়ে জানিয়েছি। মশার বিস্তারে আশপাশের মানুষও অতিষ্ঠ। তবে পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, আমরা পৌরসভাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে অভিযান শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে এই পুকুরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি পৌরবাসীকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে ডাস্টবিন ব্যবহারের আহ্বান জানান। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পুকুরটি পরিষ্কার করে শেওলা ও পরগাছা অপসারণ, পুকুরপাড়ের আবর্জনা সরানো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি পুকুরে ময়লা ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com