স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের কৃষকদের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণা এবং বিনার উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অঞ্চল উপযোগী জাতগুলো বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শান্তিগঞ্জের এফআইভিডিবি অডিটরিয়ামে ‘বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিসমূহের সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্তিকরণে করণীয়’ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় বিনা ধান-২৪, বিনা ধান-২৫, বিনা ধান-১৯, বিনা সরিষা-১১, বিনা চিনাবাদাম-৪ ও বিনা চিনাবাদাম-৮সহ অঞ্চল উপযোগী বিভিন্ন জাতের কথা তুলে ধরা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিনা, ময়মনসিংহের পরিচালক (গবেষণা) ড. মাহবুবা কানিজ হাসনা। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, খাদিমনগর, সিলেটের প্রিন্সিপাল সুব্রত কুমার চক্রবর্তী, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার শামছুদ্দিন আহমদ, বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। কর্মশালায় সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএডিসির যুগ্মপরিচালক (বীজ বিপণন) মো. হুমায়ুন কবীর, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা, কৃষক, উদ্যোক্তা কৃষক, বীজ ডিলার এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের কৃষির অন্যতম প্রধান সমস্যা পানি। পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র, বীজ ও অন্যান্য উপকরণের সংকট রয়েছে। জমির মালিকানা ও বর্গাচাষও কৃষি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সরবরাহ করতে হবে। তারা বলেন, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মশালায় জানানো হয়, বিনা এ পর্যন্ত ১৩৯টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ৯৬টি জাত মিউটেশন পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত। বক্তারা বলেন, বিনার উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি আরও ব্যাপকভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।