স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জে চুরির মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মামলার বাদীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে চুরির মামলার দুই আসামিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে জামালগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মামলার বাদী বাদল কৃষ্ণ দাস।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর করা জিডিতে মন্টি তালুকদার (২৫), তার বাবা প্রাণেশ তালুকদার (৬০), মা মঞ্জু রানী তালুকদার (৬০), উৎপল তালুকদার (৪৫) ও রূপক পাল (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৬৩২।
জিডি ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে মাতারগাঁও গ্রামে বাদল কৃষ্ণ দাসের ঘর থেকে গবাদিপশু বিক্রির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আগাম বন্যার কারণে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যস্ততা চলছিল। পরিবারের সদস্যরা ধান কাটার কাজে বাইরে থাকায় ঘরে থাকা মন্টি তালুকদারের ওপর আস্থা রেখে ঘরে থাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জিডিতে উল্লেখ করেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ, টাকা রাখার সময় মন্টি তালুকদার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বাইরে যাওয়ার পর ঘর থেকে টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে তিনি চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হলেও চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর মন্টির স্বামী রূপক পালকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ৮ মে বাদীর সঙ্গে আপসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ করেন বলে অভিযোগ বাদীর। একইভাবে মন্টির বাবা-মায়ের কাছে চুরি যাওয়া টাকা ফেরত চাওয়া হলেও তারা কোনো সদুত্তর দেননি বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আপসের মাধ্যমে বিষয়টি নি®পত্তি না হওয়ায় বাদল কৃষ্ণ দাস বাদী হয়ে মন্টি রানী তালুকদার ও তার বাবা প্রাণেশ তালুকদারকে আসামি করে জামালগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সিআর মামলা নম্বর ১৫৪/২০২৬; মামলা দায়েরের তারিখ ২২ জুন।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ। তদন্ত শেষে গত ২৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩৮০/১০৯/৫০৬(২) ধারায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার প্রথম শুনানিতে আদালত আসামিপক্ষকে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন এবং আসামিদের অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন বলে বাদী জানিয়েছেন।
বাদীর অভিযোগ, জামিন পাওয়ার পর মন্টির স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর মন্টিসহ অভিযুক্তরা বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে থানায় জিডি করেন।
জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার আসামিদের পক্ষ নিয়ে উৎপল তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মামলার সাক্ষী রূপন পুরকায়স্থকে মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন।
বাদল কৃষ্ণ দাসের আশঙ্কা, চুরির মামলার জেরে আসামিরা তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে। এমনকি তাদের ফাঁসাতে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোরও আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের দায়ী করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জিডিতে অনুরোধ জানিয়েছেন বাদী।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।