দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী-শিক্ষার্থী

প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর

আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ১০:১০:০৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ১০:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
জালাল উদ্দিন নাসিম::
দৃষ্টিনন্দন মার্কেট, কমিউনিটি সেন্টার ও পার্কিং সুবিধা তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন পৌরসভা ভবনের জায়গায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাবও জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা সেই জায়গাটিই এখন পরিণত হয়েছে শহরের অন্যতম বড় ময়লার ভাগাড়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা ও বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে এখানে। দিনের পর দিন পড়ে থাকা পচা-গলা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ময়লার স্তূপে বাড়ছে মাছি-মশার উপদ্রব। ফলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাস ও চলাচলকারী মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ময়লার এই ভাগাড়ের নিকটেই রয়েছে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের পুকুর ও হোস্টেল, ঐতিহ্য জাদুঘর এবং শহরের পরিচিত শাপলা চত্বর। জনসমাগমপূর্ণ এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে দিনের পর দিন বর্জ্য পড়ে থাকায় একদিকে নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন পৌরসভা ভবনের জায়গাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যরে স্তূপ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পচনশীল আবর্জনা, কোথাও জমে আছে বড় বড় স্তূপ। এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। ময়লার ওপর মাছির আনাগোনা এবং আশপাশে মশার উপদ্রবও চোখে পড়েছে। বৃষ্টির পানি বর্জ্যরে সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলছে। শহরের অন্যতম পরিচিত স্থান শাপলা চত্বরেও পড়েছে এর বিরূপ প্রভাব। বিকেলে এখানে শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে এখন স্বাভাবিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে ঐতিহ্য জাদুঘরের সামনেও। গুরুত্বপূর্ণ ও নান্দনিক স্থানগুলোর পাশে এমন বর্জ্যরে স্তূপ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা মো. জহুর মিয়া বলেন, শহরের মাঝখানে স্কুল ও মানুষের চলাচলের রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ রাখা হয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পৌরবাসীর দাবি, ময়লার স্তূপগুলো দ্রুত সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হোক। শহরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ স¤পাদক কাঞ্চন বৈদ্য বলেন, এখানে পুরাতন পৌরসভা ও পৌর কলেজের পুরাতন ক্যা¤পাস ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন কোর্ট ও শাপলা চত্বরের পাশে এবং সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরসংলগ্ন এই জায়গাটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। অথচ বর্তমানে এটি পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন শহরের বাসাবাড়ির ময়লা এখানে ফেলা হচ্ছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশের রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে বমি আসার মতো অবস্থা হয়। অসহ্য দুর্গন্ধের কারণে শাপলা চত্বরেও এখন স্বাভাবিকভাবে বসে সময় কাটানো যায় না। শহরের প্রাণকেন্দ্রের এমন নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী জায়গায় কেন ময়লা ফেলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দ্রুত ময়লা অপসারণ করে এই জায়গাটিকে ময়লার ভাগাড় থেকে রক্ষা করুন। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায় বলেন, পুরাতন পৌরভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের কথা দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানকে কী পরিকল্পনায় ময়লার অস্থায়ী স্টেশন করা হলো, সেটি পৌরবাসীর প্রশ্ন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে ভবনটি অপসারণ করা উচিত হয়নি। জায়গাটি একসময় পৌর কলেজ, কর্মকর্তাদের আবাসন ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে মুখরিত ছিল। এখন মানুষ নাকে রুমাল চেপে চলাচল করেন। হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ স¤পাদক একে কুদরত পাশা বলেন, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। ঐতিহ্য জাদুঘর ও শাপলা চত্বরে মানুষ বিকেলে ঘুরতে আসেন। অথচ এর পাশেই পুরাতন পৌরভবনের জায়গাকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এতে মানুষজন এখানে আসতে অনাগ্রহী হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরের পাশেই জুবিলী স্কুলের হোস্টেল। ময়লার দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘœ ঘটছে। শহরের ভেতরে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক খলিল রহমান বলেন, পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুরাতন পৌরসভা ভবনের জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আশপাশে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, জাদুঘর ও শাপলা চত্বর রয়েছে। এখানে ময়লা ফেলার কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে এবং রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণ করা উচিত। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েস বলেন, পুরাতন পৌরসভা ভবনের স্থানে ময়লার ভাগাড় থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ওই স্থানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এখানে দৃষ্টিনন্দন মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নিতে ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ‘২৫০০’ নামে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে সলিড ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি চুক্তি পর্যায়ে আছে। একজন প্রকৌশলী এ প্রকল্পের আওতায় বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছেন। প্রকল্পটি শুরু হলে পুরো শহরের সলিড ওয়েস্ট একটি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com