ধর্মপাশায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর, চিকিৎসক লাঞ্ছিত

আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ১০:১৩:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ১০:১৩:০০ পূর্বাহ্ন
ধর্মপাশা প্রতিনিধি :: ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন মাস বয়সী সিয়াম নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কে লাঞ্ছিত ও জরুরি বিভাগের কক্ষের জানালার কাঁচ ভাঙচুর এবং সেখানে থাকা একটি নেবুলাইজার মেশিন ভঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাড়ি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামে। সে ওই গ্রামের রাব্বী মিয়া (৩৪) ও স্মৃতি মনি (২৮) দম্পতির সন্তান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশু সিয়াম সিভিআর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হলে গত বৃহ¯পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার পরামর্শে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সাবের ফুয়াদের তত্ত্বাবধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা কার্যক্রম চলে আসছিল। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এ অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালের বিছানা থেকে সরিয়ে তাকে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাবের ফুয়াদের কাছে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু শেখর দাস। দুইজন চিকিৎসক মিলে শিশুটিকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেন। বিকাল পাঁচটার দিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটি মারা গেছে এই খবরটি শোনার পর শিশুটির বাবা-মা দুজনে মিলে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার সার্টের কলার টেনে ধরে তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এক পর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও জরুরি বিভাগে থাকা একটি নেবুলাইজার মেশিন ভাঙচুর শুরু করেন। হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফরা আরএমওকে নিরাপদে সরিয়ে দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্মপাশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু শেখর দাস জানান, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এই খবরটি শুনার পরই শিশুটির বাবা-মা আমার সার্টের কলার ধরে আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। জরুরি বিভাগে থাকা স্টাফরা আমাকে রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার জানান, শিশুটির মৃত্যুতে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ভাঙচুর ও একটি নেবুলাইজার মেশিন ভাঙচুর করার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, ইউএনও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ধর্মপাশা থানার এসআই শরীফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com