জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা

আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৮:১৮:২১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৮:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শামস শামীম::
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হাওরে বোরো ফসল রক্ষা, বন্যানিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পানি নিষ্কাশন, প্রবহমানতা বৃদ্ধি, কৃষিজমি চাষের আওতায় আসা, সেচ সুবিধাবৃদ্ধি, বন্যার সময় অবকাঠামো সুরক্ষাসহ বহুমুখি সফলতার জন্য সুনামগঞ্জের ৫১টি নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে বিভিন্ন স্থানে চর পরা এবং প্রকৃতি বদলে যাওয়া খাল ও নদী খননের মাধ্যমে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যবৃন্দ নদ-নদী ও খাল খননের তালিকা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পাঠিয়েছেন। সেই তালিকা যাচাই করে জেলার ৫১টি নদ-নদী ও খালের প্রায় ২শ কিলোমিটার খনন করতে ডিপিপি তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানোর পর বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে আছে। খননে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা আরো আশা করছেন ২০২৭-২০২৮ অর্থ বছর থেকে খনন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এদিকে নদী, খাল খনন নিয়ে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ কৃষি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকেও চিঠি দিয়ে তারা যেসব খনন করছে তার তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তঃদফতরগুলোর মধ্যে খনন বিষয়ে সমন্বয়ের জন্যই এটা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরই নদী-খাল খননের ডিপিপি তৈরি করেছে পাউবো’র বিশেষজ্ঞ টিম। পরে এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে আছে। হাওরের নদ-নদী খালগুলো খনন করে প্রবহমানতা ফেরানো গেলে জলবায়ু ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস হবে এবং হাওরের ফসল উৎপাদনে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তাহিরপুরের মরা যাদুকাটা, বীরনগর খাল, কেন্দুয়া খালসহ ৯টি খাল ও নদী, ধর্ম পাশার কালিজানা খাল, চুনাই নদী, সুন্দরপুর খালসহ ১১টি খাল ও নদী, মধ্যনগরের পাশোয়া খালসহ দুটি খাল, দিরাইয়ের বেতই নদী, হেরা চাপতি নদী, টেংরাখালী খাল নদীসহ ৮টি, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জে ২টি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নৌকাখালি, তেঘরিয়া খাল, জিরাগ নদীসহ ৭টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ধামালিয়া, করচার খালসহ ৫টি, দোয়ারাবাজারে মরা খাশিয়ামারাসহ ৩টি, ছাতকে বটের খাল, মাছুখালসহ ৩টি খাল খনন করা হবে।
১১ উপজেলার প্রায় ১৯৮.৩৯ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ডিপিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারদের মাধ্যমে এই খাল খনন করবে। তবে খাল খনন যাতে যথাযথভাবে হয় সেজন্য সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা জানিয়েছেন অতীতে খাল ও নদী খননে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে। লোপাট হয়েছে বিপুল বরাদ্দ।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওর এলাকার বৈশিষ্ট্যই হলো অসংখ্য নদ নদী ও খাল। নানা কারণে পানিধারণের আধার নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বদলে গেছে গতি-প্রকৃতি। দখল ও দূষণে চিহ্ন মুছে গেছে। এ কারণে বন্যায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলাবাসীকে। পানি ধারণের আধার কমে আসায় একদিকে সেচ সুবিধা সংকুচিত হয়েছে। আরেকদিকে আগাম বন্যায় ফসলডুবির ঘটনা ঘটছে এবং মাছ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। কলোনী আমল থেকেই সুনামগঞ্জের হাওরের মানুষ নদ নদী খাল ও বিল খননের দাবি জানিয়ে আসছেন। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশ আমলেও রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে খাল ও নদী খননের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে। কিন্তু বিজ্ঞান সম্মত ও প্রকৃতি সম্মত খনন কাজ হয়নি। যার ফলে এখন বর্ষাতেই বিপর্যয় নামে। বন্যা হলে বিপর্যয় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ সভাপতি শাহ কামাল বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। হাওর, নদী, খাল ও প্রাণ প্রকৃতির উপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে জলবায়ু। বিশেষ প্রাণ ও প্রকৃতির প্রাণরস নদ নদী ও খালগুলোতেও নানা প্রভাব পড়েছে। খনন করা হলে হাওরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ফসল উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। তবে খনন হতে হবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ও প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে। না হলে খননের নামে সরকারের অর্থ অপচয় হবে। স্থানীয় অভিজ্ঞ মানুষদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করলে এর সুফল মিলবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, আমরা চলতি বছরই ১৫১টি খাল ও নদী খননের ডিপিপি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন পরিকল্পনা কমিশনে আছে। খাল ও নদী খননে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। খনন হলে এই এলাকার ফসল রক্ষা, বন্যানিয়ন্ত্রণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার সময় বিভিন্ন অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃষি ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা ক্ষেত্রে বিরাট উপকার নিয়ে আসবে। আমরা আশা করি ২০২৭-২০২৮ অর্থ বছর থেকেই কাজ শুরু হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com