প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত আড়াই হাজার প্রার্থী বাদ, কারণ জানে না কেউ!

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৮:৪২:৪৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৮:৪২:৪৫ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করেও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। ঠিক কী কারণে তারা নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন, তা জানেনও না। এখন সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় ভেরিফিকেশনের যে কথা বলা হচ্ছে, এটিকে প্রার্থীরা প্রহসন বলে উল্লেখ করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচ’-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ব্যাচ-২০২৫। দীর্ঘ আট মাস সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বেকার থেকে মানবেতর জীবনযাপন করার পর যখন অযাচিতভাবে একজন প্রার্থী ভেরিফিকেশনের নামে প্রহসনে নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয় তখন রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে হরণ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ বেকারদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রহসন করা হচ্ছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমরা চাই না পুনরায় রি-ভেরিফিকেশনের নামে প্রহসন করা হোক। ২৫০০ প্লাস প্রার্থীকে কেন বাদ দেওয়া হলো তার কারণ অজানা। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আসলে কে, তা আমরা জানি না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলে সব দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের, আবার মন্ত্রণালয় বলে জেলা শিক্ষা অফিস মূল দায়িত্বে। আর জেলা অফিস বলে দায়িত্ব অধিদপ্তরের হাতে। আসলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারা? আমাদের চাওয়া, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয়, সনদ জালিয়াতি ছাড়া যোগ্য সবাইকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। না হলে কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। আমরা চাই, সব যোগ্যপ্রার্থী আগামী ১ অক্টোবর একসঙ্গে যোগদান করতে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তারাও গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে চুপ। ফলে বাদ পড়া প্রার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। সর্বত্রই এ নিয়ে হাহাকার। গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদিকে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিতে দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com