মানববন্ধন

সব সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদের আহ্বান

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৯:২৫:৫০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৯:২৫:৫০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ ও স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে তথ্য কমিশন পুনর্গঠন, তথ্য অধিকার আইন যুগোপযোগী করা এবং অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ : অপতথ্যরোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সুনামগঞ্জ এবং নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে সনাক, সুনামগঞ্জের সভাপতি কানিজ সুলতানা বলেন, সম্প্রতি সনাক-টিআইবি জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ গ্রহণ ও নি®পত্তির বিষয়ে একটি জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই জরিপের আলোকে সরকারি দপ্তরগুলোকে তাদের ওয়েব পোর্টালের তথ্য শতভাগ হালনাগাদ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ফলোআপে প্রতিটি সরকারি দপ্তরের ওয়েব পার্টালে শতভাগ তথ্য হালনাগাদের চিত্র পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, অন্যদিকে দুর্নীতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং জনগণ সরকারি সেবার সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার সুযোগ পাবে। তারা বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার এখন কোনো একটি অঞ্চল, রাষ্ট্র বা সমাজের একক সমস্যা নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে অপতথ্য ও গুজব তৈরি এবং দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী অপতথ্য ছড়িয়ে সামাজিক, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় সঠিক, বিশ্বাসযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। মানববন্ধনে সনাক-টিআইবির সদস্য রাজু আহমেদ তথ্য অধিকার, তথ্যের প্রবেশগম্যতা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে তথ্য কমিশন পুনর্গঠন, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ, কমিশনের জনবল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ যুগোপযোগী করা এবং আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন বিধান সংস্কার বা বাতিল করা। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ বাড়ানো, তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর তথ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস এবং একটি স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার পরও আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি এবং তথ্য কমিশনের কার্যকর ভূমিকার অভাবে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানববন্ধনে নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম সুনামগঞ্জের সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, সাধারণ স¤পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় সনাক-সুনামগঞ্জের সহসভাপতি সুখেন্দু সেন, সদস্য অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে, রীনা রানী ঘোষ, মো. আশলাফুজ্জামান বাবলু এবং ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি ওবায়দুল মুন্সী, ফারুক আহমদ, সাংগঠনিক স¤পাদক ইজাজুল হক চৌধুরী নাছিম, জিয়াউর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা স¤পাদক মোশফিকুর রহমান স্বপনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com