ডায়রিয়া-চর্মরোগে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপলোড সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৮:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৮:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
নূরুননাহার লোনা::
সুনামগঞ্জে দূষিত পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থার সমস্যা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও ঘনবসতির কারণে ডায়রিয়া, খোসপাঁচড়া (স্ক্যাবিস), জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন, জুলাই ও আগস্টে মোট ৩ হাজার ৯৫৮ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শিশু ১ হাজার ৪৮১ জন এবং প্রাপ্তবয়স্ক ২ হাজার ৪৭৭ জন। জুনে ৪৫ রোগী ছিলেন ১ হাজার ১১৫ জন, শিশু ২৮৫ ও প্রাপ্তবয়স্ক ৮৩০ জন। জুলাইয়ে মোট রোগী বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ জন; এর মধ্যে শিশু ৩৯০ ও প্রাপ্তবয়স্ক ৯০০ জন। আগস্টে রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে ১ হাজার ৫৫৩ জনে দাঁড়ায়। এ মাসে শিশু রোগী ছিলেন ৮০৬ জন, আর প্রাপ্তবয়স্ক ৭৪৭ জন। অর্থাৎ জুনের তুলনায় আগস্টে সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে ৪৩৮ জন। একই সময়ে শিশু রোগী বেড়েছে ৫২১ জন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। পচা ও বাসি খাবার না খাওয়া, খাবারের আগে ও পায়খানা ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের বিষয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মানুষ যাতে রোগী না হন, সেদিকেই আগে লক্ষ্য রাখতে হবে। ডায়রিয়া হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগটি প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সোহাগ আরও বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকে ভুলভাবে ওরস্যালাইন প্রস্তুত করে পান করেন। তার পরামর্শ, ওরস্যালাইন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ নিরাপদ পানিতে গুলে খেতে হবে। ভুল পরিমাণ পানিতে গুলে খেলে তা শরীরের কোন কাজে আসবে না। সঠিকভাবে তৈরি করা ওরস্যালাইন পানিশূন্যতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুন, জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ সালের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে ডায়রিয়ায় মোট ৪ হাজার ২৬৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া ইমার্জেন্সিতে ৬৫১ জন, ইনডোরে ৩ হাজার ৪২৮ জন এবং আউটডোরে ১৯০ জনের তথ্য রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, দোয়ারাবাজারে ৬৪৩, ছাতকে ৩৯৫, দিরাইয়ে ১ হাজার ৩০ জন, তাহিরপুরে ৩৬১, জগন্নাথপুরে ৪৭৩, জামালগঞ্জে ২৭৭, শাল্লায় ২৫৮, শান্তিগঞ্জে ২৬০, ধর্মপাশায় ৩০০ এবং বিশ্বম্ভরপুরে ২৭২ জন ডায়রিয়া রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ডা. সোহাগ আরও বলেন গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। শিশুর ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, চোখ বসে যাওয়া বা পানি খেতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে জানাযায়, খোসপাঁচড়া (স্ক্যাবিস) সংক্রমণ বেড়েছে। অনেক জায়গায় একই পরিবারের সাত আট জনও আক্রান্ত হয়েছে। একজন রোগী ফাহিয়া আক্তার বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে খোসপাঁচড়ায় ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও মলম ব্যবহার করেও পুরোপুরি সমস্যা কাটেনি। তার দুই মেয়েও খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত হয়েছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়ন্ত কুমার পাল বলেন, খোসপাঁচড়া একটি সংক্রমক চর্মরোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই বিছানা, কাপড়, তোয়ালে বা ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস ভাগাভাগি করলেও পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বন্যা-পরবর্তী স্যাঁতসেঁতে ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দেন, পরিবারের কারও খোসপাঁচড়ার উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি শিশুরা যাতে বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে হাত না দেয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদর পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের মধ্যেও উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না নজর রাখতে হবে। শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের অসুস্থতার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। অনেকে ফার্মেসি থেকে মলম কিনে ব্যবহার করেন এটি ঠিক নয়। তিনি বলেন, খোসপাঁচড়া (স্ক্যাবিস) এবং এলার্জি এক নয়। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com