সুনামগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পূজার আর ১০ দিন, ৪৪৪ মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি

আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৬:৩২:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৬:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন
প্রীতম দাস::
শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র ১০ দিন বাকি। সুনামগঞ্জে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। আর মৃৎশিল্পীদের কর্মশালায় দিন রাত চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। কোথাও চলছে মাটির কাজ, কোথাও শেষ হয়েছে প্রতিমা নির্মাণ, আবার কোথাও চলছে রং ও অলংকরণের প্রস্তুতি।
এবার সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় মোট ৪৪৪ টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তেমনি শহর ও গ্রামাঞ্চলে উৎসবের আমেজও বাড়ছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ব্যাখ্যায় ঘোটকে আগমনকে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতীক এবং নৌকায় গমনকে জল ও শস্যবৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এবছর শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পর্ব শুরু হবে ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী দিয়ে। ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১০ অক্টোবর পালিত হবে মহালয়া।
পৌর শহরের রায়পাড়ার বাসিন্দা প্রীতম দেব বলেন, প্রতিবছর তারা দুর্গাপূজার অপেক্ষায় থাকেন। পরিবার পরিজন নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে পূজা দেখেন। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ সম্প্রীতির শহর। এখানে আমরা সবাই ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে চলি।
বিশাল রায় বলেন, মা দুর্গার আগমন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়। আমরা এবার সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা করব এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখব।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের ব্যস্ততাও এখন তুঙ্গে। পৌর শহরের মূর্তি কারিগর প্রফুল্ল চন্দ্র পাল বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, ভাদ্র মাস থেকে মূর্তি বানানোর কাজ শুরু করি এবং পূজার আগেই শেষ করি। আগে মূর্তির অর্ডার বেশি হতো, এখন কমে গেছে। কারিগরদের মজুরি দেওয়ার পর তেমন কিছু থাকে না। তারপরও মায়ের মূর্তি আমরা আনন্দের সঙ্গে তৈরি করি। এতে মনে শান্তি পাই।
আরেক কারিগর ঝুটন চন্দ্র পাল বলেন, আমরা মায়ের মূর্তির কাজ করি, এটা খুব ভালো লাগে। টাকা পয়সা আমাদের কাছে বড় বিষয় নয়, মন থেকেই কাজ করি। এখন মূর্তির কাজ প্রায় শেষের দিকে। কয়েকদিন পর রং করার কাজ শুরু করব। 
পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ কুমার বাপ্পী বলেন, জেলার ১২টি উপজেলায় ৪৪৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে জেলার সব পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারাদার, স্বেচ্ছাসেবক ও সিসি ক্যামেরা রাখার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়েছে। আমরা প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাব। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও একটি মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ পদ দাশ বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে পূজা সম্পন্নের জন্য শুরু থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে পাহারাদার, নৈশপ্রহরী ও স্বেচ্ছাসেবক দল রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পূজা শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কিছু মোবাইল ফোর্স, কিছু স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যরাও থাকবে। আমরা আশা করছি, শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সবাই পূজা পালন করতে পারবেন।
এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। প্রতিমা কারিগর, মৃৎশিল্পী, ঢাকি, ফুল ব্যবসায়ী, আলোকসজ্জাকারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ৪৪৪টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। প্রতিমার মাটির কাঠামো থেকে রং ও সাজসজ্জা সবকিছুতেই চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা আয়োজক ও প্রশাসনের।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com